× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সালমান ফরিদ, সিলেট

প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৬, ১২:৪০ এএম

ঈদ শুভেচ্ছায় সিলেটে নির্বাচনি প্রচারণা

সালমান ফরিদ, সিলেট

প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৬, ১২:৪০ এএম

ঈদ শুভেচ্ছায় সিলেটে নির্বাচনি প্রচারণা

জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ। সমানে আসছে সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন। এই তিন নির্বাচন সামনে রেখে পুরো রমজান মাস ব্যস্ত সময় পার করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসা পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে তারা আরও বেশি নিজেকে জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ঈদ শুভেচ্ছা, ঈদ উপহার প্রদানের মাধ্যমে তারা চালিয়ে নিয়েছেন নির্বাচনি প্রচারণাও। সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানারে সিলেট নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলা ও বাজার ছেয়ে গেছে। এমনকি গ্রামেও দেখা মিলেছে ব্যানার, পোস্টার, ফ্যাস্টুনের। এই তৎপরতায় এগিয়ে সরকারি দল বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রয়েছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরাও। ঈদ শুভেচ্ছার ফাঁকে তারাও সমান তালে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে নিচ্ছেন। উভয় দলের স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি প্রবাসী সম্ভাব্য প্রার্থীরাও ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতে সিলেটে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনি হাওয়া। লক্ষ্য তিন স্তরের স্থানীয় নির্বাচন। তার মধ্যে একটি সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে মেয়র পদে বিএনপির এক ডজন মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে নেমেছেন। তারাই নগরজুড়ে বড় বড় বিলবোর্ড, পোস্টার আর ফেস্টুন লাগিয়েছেন। ঈদ শুভেচ্ছার আড়ালে মূলত কৌশলে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন প্রার্থীরা। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে নজর কাড়ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা। তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি সরাসরি মেয়র পদে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। আছেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়রের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তিনি। তারই রানিং মেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী আছেন শীর্ষ দাবিদার, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং এখানে তিনি বেশ সক্রিয়। দলীয় মনোনয়নের দাবিদার রয়েছেন অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামানও। সিলেটের বহুল আলোচিত রাজনৈতিক চরিত্র। ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু, তারপর পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃত্বে। ছিলেন কেন্দ্রীয় সহস্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক। সিলেটের রাজপথের এই লড়াকু নেতা এবার নেমেছেন দলীয় মনোনয়নের লড়াইয়ে।

সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম আরেক শীর্ষ দাবিদার। এর আগেও তিনি মেয়র পদে লড়তে চেয়েছিলেন, দলের সিদ্ধান্ত মেনে পরে সরে পড়েন। আছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। আরও আছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, বিএনপি নেতা ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী ও ফয়েজ আহমদ দৌলত।

এদিকে কবে নাগাদ এই নির্বাচন হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সিলেটে এসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে কি না, তা সংসদে সিদ্ধান্ত হওয়ার পরই তারিখ চূড়ান্ত হবে। তবে আইনি বা প্রশাসনিক এই অনিশ্চয়তা দমাতে পারছে না প্রার্থীদের। তারা এখন কেবল কেন্দ্রের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায়।

দলীয় সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন ছাড়াও ডামাডোল শুরু হয়েছে উপজেলা পরিষদ ও পৌর নির্বাচনের। এসব ক্রমান্বয়ে সরকার আয়োজন করবে। কিন্তু নির্বাচনের পরিবেশ দেশে ফিরে আসায় সব স্তরের নির্বাচনের প্রার্থীরা রামজান ও ঈদ সামনে রেখে প্রচারণায় নেমেছেন। সিলেটের বেশির ভাগ উপজেলায় আছে প্রবাসী প্রার্থীর আধিক্য। সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বিশ্বনাথ, দক্ষিণ সুরমা ও ওসমানীনগর উপজেলায়। তবে বিশ্বনাথ উপজেলায় উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে প্রার্থিতার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রবাসীরা দৌড়ঝাঁপ করছেন। উপজেলা ও পৌরসভার উভয়টিতেই প্রবাসী মুখ দেখা যেতে পারে। নির্বাচনের আগে সব উপজেলা ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এগুলোতে প্রবাসীরা জায়গা পেতে পারেন। তারাও ঈদ সামনে রেখে নামেন প্রচারণায়।

বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন সেলিম দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘এ বছর সম্ভবত বাংলাদেশের নির্বাচনের বছর হবে। একসঙ্গে চারটি নির্বাচন হবে। অতীতে পরিবেশ না থাকায় আমরা প্রবাসীরা নির্বাচনে আগ্রহ দেখাতে পারিনি। আমরা দেশের উন্নয়ন ও মানবসেবায় অবদান রাখতে চাই। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুবাদে আশা করছি নির্বাচনে আসবেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বনাথের সন্তান। দীর্ঘদিন বিশ্বনাথে ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি। ছিলাম সাধারণ সম্পাদক। জেলা ছাত্রদলের সদস্যও ছিলাম। প্রবাসে তারেক রহমানের কর্মী হিসেবে তাকে সঙ্গ দিয়েছি। তার স্নেহ-ভালোবাসা পেয়েছি। সেই জায়গা থেকে আশা করছি এলাকার সেবায় নিজেকে কাজে লাগানোর।’

ঈদে প্রচারণা প্রসঙ্গে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি  সক্রিয়। শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয়দের সঙ্গে টেলিফোনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। তবে নিজে ব্যানার-ফ্যাস্টুন টানাইনি। ভালোবেসে স্থানীয় নেতাকর্মীরা আমার আকাক্সক্ষার কথা এলাকাবাসীকে জানাচ্ছেন।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!