হবিগঞ্জের মাধবপুরের সুরমা চা-বাগানে টানা চার সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের বেতন বন্ধ থাকায় চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে সহস্রাধিক শ্রমিক পরিবার। বাগানের কার্যক্রমও বন্ধ। সব মিলিয়ে অনাহার, অপুষ্টি ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শত শত মানুষের।
বাগান সূত্রে জানা গেছে, এখানে প্রায় ২ হাজার ২০০ শ্রমিক কর্মরত। তাদের ওপর নির্ভরশীল শিশু ও বৃদ্ধসহ ৬ থেকে ৮ হাজার মানুষ। বাধ্য হয়ে অনেকে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি মহাজনদের কাছে থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নিচ্ছে।
স্থানীয় শ্রমিক ও পঞ্চায়েত সূত্র জানায়, চার সপ্তাহ ধরে কোনো মজুরি পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি রেশন সরবরাহও অনিয়মিত। ফলে অনেক পরিবার দিনে এক বেলা খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছে। শিশুদের অনেকে না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।
এক শ্রমিক মা বলেন, ‘চার সপ্তাহ ধরে কোনো টাকা পাইনি। বাচ্চারা না খেয়ে কাঁদে। আমরা কীভাবে বাঁচব? বাগান চালু করে বকেয়া বেতন দিলেই আমরা স্বাভাবিক হতে পারি।’
পঞ্চায়েত নেতা দ্বীপ কর্মকার জানান, বেতন বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিকেরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন। ইতোমধ্যে বাগানের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বাগান ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বাগান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে বেতন দিতে না পারার কথা জানায়। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা বিষয়টিকে ‘নীরব মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা দ্রুত বকেয়া পরিশোধ, রেশন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং বাগান পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম জানান, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষÑ দুই দিক থেকেই সমাধানের জন্য সুন্দর মনের পরিচয় দিয়ে এটির সুরাহা করা দরকার। বাগানের উৎপাদন বন্ধ হলে শুধু মালিকের ক্ষতি না, এটি দেশের অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করে। সৃষ্ট সংকট সমাধানে চা-বোর্ডের কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন