ভোলার বিএনপি নেতা মো. জাকির ফরাজীর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছেন তার অনুসারীরা। গতকাল বুধবার সকালে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখায় পরীক্ষার্থীসহ দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা শহরের বাংলাবাজার এলাকায় মানববন্ধনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা উত্তেজিত হয়ে টায়ার জ্বালিয়ে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন পাবলিক ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার জন্য পরীক্ষার্থীরা সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
অবরোধের ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে দুপুর নাগাদ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে গত সোমবার রাতে ভোলা ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকায় ঢাকা থেকে আসা ‘কর্ণফুলী-১৩’ লঞ্চে অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড। অভিযানে একটি একনলা বন্দুক, ৪ রাউন্ড তাজা গুলি ও ২ কেজি গাঁজাসহ সদর উপজেলার কোরালিয়া খায়েরহাট এলাকার বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা মো. জাকির হোসেন ফরাজিকে আটক করে। এ ঘটনায় সদর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। কোস্ট গার্ড বলছে, জাকির বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
তবে জাকিরের অনুসারীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং রাজনৈতিকভাবে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
দৌলতখান থানার ওসি মো. ফকরুল ইসলাম জানান, সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন