× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn
ঢাকার তীব্র নিন্দা, মরদেহ দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া

ইসরায়েলি হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০৬:০৮ এএম

ইসরায়েলি হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবার দুটির প্রতি জানানো হয়েছে গভীর সমবেদনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, দুজনের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে এ ঘটনায় নিহতদের এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

গত সোমবার লেবাননের স্থানীয় সময় দুপুরে নাবাতিয়েহ জেলার জেবদিন এলাকায় রুটি বহনকারী একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় নিহত হন সাতক্ষীরা সদরের ধূলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের নাহিদুল ইসলাম (৪০)। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বর্বরোচিত এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুজনের মরদেহ দেশে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ওই অঞ্চলে চলমান সহিংসতা ও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

এদিকে নিহত দুজনের বাড়িতে চলছে মাতম। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে মাত্র আড়াই মাস আগে ১২ লাখ টাকা ঋণ করে লেবাননে পাড়ি জমান শফিকুল ইসলাম। প্রতিবেশী নাহিদুল ইসলামের মাধ্যমে তিনি সেখানে গিয়ে একটি ফলের বাগানে শ্রমিকের কাজ শুরু করেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি শফিকুলের। বিদেশে যাওয়ার আড়াই মাসের মাথায় তাকে ফিরতে হচ্ছে লাশ হয়ে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় শফিকুলের বাড়িতে কান্নার রোল। ঋণের বোঝা ও দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী রুমা খাতুন বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। শফিকুলের বৃদ্ধ বাবা আফসার আলী ও মা আজেয়া খাতুন তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুমা জানান, তার স্বামী সংসারের হাল ধরতে বহু টাকা ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি নেই। ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। অশ্রুসজল চোখে তিনি বলেন, ‘এখন এই ঋণ আমি কীভাবে শোধ করব? আমার দুই সন্তান নিয়ে কীভাবে বাঁচব?’ স্বামীর লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শফিকুলের বাবা জানান, আত্মীয়দের কাছে থেকে নিয়ে, গরু বিক্রি করে ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল, ছেলে উপার্জন করে সংসারের কষ্ট দূর করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ মুছে গেছেÑ ছেলে ফিরছে লাশ হয়ে।

ধূলিহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা শফিকুলের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত জানান, নিহত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে প্রশাসন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

একই চিত্র দেখা যায় নাহিদুলের গ্রাম আশাশুনিতেও। সেখানেও চলছে স্বজনদের আহাজারি। নাহিদ আশাশুনি উপজেলার কাটাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদের ও নুরুন নাহার দম্পতির সন্তান।

নাহিদের বাবা আব্দুল কাদের বলেন, ‘ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম পরিবারের ভাগ্য ফেরানোর আশায়। এখন একদিকে সন্তান হারানোর কষ্ট, অন্যদিকে ঋণের চাপÑ সব মিলিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।’

নাহিদুল ইসলামের মা নূরনাহার বলেন, নাহিদ শফিকুলের সঙ্গে একই সময়ে লেবাননে যায়। দুই ভাইয়ের মধ্যে নাহিদ বড়। নাহিদের ফুফু রোজিনা খাতুন জানান, নাহিদের বিদেশে যাওয়ার সময় ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে যায়। সে বিদেশে গিয়ে মাত্র এক মাস টাকা পাঠিয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল জানান, বিষয়টি সরেজমিনে খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন পেলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে গতকাল দুপুরে নিহত নাহিদের বাড়িতে যান আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামা নন্দ কুন্ডু। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসন পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!