সারা দেশে অগ্নিকা-, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিভিন্ন দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে আরও আধুনিক এবং যুগোপযোগী করতে লোকবল বৃদ্ধি ও নতুন ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ফায়ার সার্ভিস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আয়োজিত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬, পাসিং আউট প্যারেড ও পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন রয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট নয়। তাই সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নতুন স্টেশন স্থাপন ও জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এরই মধ্যে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিসের একটি আধুনিক ট্রেনিং অ্যাকাডেমিসহ প্রায় ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখব সম্পদ ও জীবন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সরকার ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিকায়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ই-ফায়ার সনদ চালু করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অগ্নিকা- মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহিদ হওয়া ফায়ার সার্ভিসের ৫২ সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই আন্দোলনে নিহত-আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, জেলা পুলিশের এএসপি (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম, রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাহউদ্দিন আহমেদসহ ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রেনিং গ্রাউন্ডে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং কেক কেটে ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এরপর প্যারেড কমান্ডার ফয়সালুর রহমানের নেতৃত্বে চারটি কন্টিনজেন্ট প্রধান অতিথিকে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে।
পরে স্টেশন অফিসার, ফায়ারফাইটার, ড্রাইভার, ডুবুরি ও নার্সিং অ্যাটেনডেন্টদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে শপথ পাঠ করানো হয়। একই সঙ্গে বীরত্বপূর্ণ কাজ ও প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য নির্বাচিত ২০ সদস্যকে পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসকে আরও আধুনিক, দক্ষ, মানবিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী দায়িত্ব পালনে সততা ও নিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দুর্ঘটনা ও দুর্যোগে ফায়ারফাইটাররাই সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়ান, যা তাদের জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অনুষ্ঠান শেষে মার্চপাস্টের মাধ্যমে প্যারেডের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পরে প্রধান অতিথি কন্টিনজেন্ট সদস্যদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
উল্লেখ্য, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে ২০ মে থেকে ২২ মে পর্যন্ত সারা দেশে তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন