পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের কামারপল্লিগুলোতে ব্যস্ততা তুঙ্গে উঠেছে। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য দা, ছুরি, চাপাতি ও বঁটির বাড়তি চাহিদ মেটাতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীন কাজ করছেন কামারশিল্পীরা। কয়লার জ¦লন্ত আগুন আর হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর উপজেলার নিমগাছী ও চান্দাইকোনাসহ বিভিন্ন হাট-বাজার।
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো দা-ছুরি শান দেওয়ার ধুম পড়েছে। কারিগরেরা জানান, আকারভেদে সাধারণ ছুরি ৫০০ থেকে ৭০ টাকা, দা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং বঁটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পশু জবাইয়ের বিশেষ ছুরির দাম রাখা হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
তবে ঈদের এই বাড়তি কাজের চাপের মধ্যেও কাঁচামালের চড়া দাম নিয়ে কামারদের মনে রয়েছে চরম অসন্তোষ। নিমগাছী বাজারের কামারশিল্পী সাধন কর্মকার ও গণেশ কর্মকার জানান, লোহার পাত, কয়লা ও কাঠের হাতলসহ সব ধরনের কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে হাড়ভাঙা খাটুনির পরও লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে না। সরকারি কোনো সহায়তা বা ঋণের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে পৈতৃক এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মও আয়ের তুলনায় কষ্ট বেশি হওয়ায় এই শিল্পে আগ্রহ হারাচ্ছে।
এদিকে বাজারে দা-ছুরির চড়া দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। চান্দাইকোনা হাটে আসা জহুরুল ইসলাম ও মজিদ হোসেন জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে নতুন সরঞ্জামের দাম যেমন বাড়ানো হয়েছে, তেমনি পুরোনো ছুরি শান দিতেও ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রায়গঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এই লোহাশিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে সাময়িক এই ঈদের ব্যস্ততাই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুব্যবস্থা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন