ফেসবুকে মাত্র পাঁচ দিনের পরিচয়, তা থেকেই প্রেম। আর সেই প্রেমের টানেই গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে ছুটে এলেন নীরব (২০) নামের এক যুবক। তবে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর যুবকটি বিয়ে করতে সানন্দে রাজি হলেও বেঁকে বসেছেন গৃহবধূ। গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের গারোডোবা এলাকায় চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আটক নীরব পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বলিবদ্র ইউনিয়নের মুসুদ্দি উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গারোডোবা এলাকার দুবাই প্রবাসী রাহীমের স্ত্রীর সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে নীরবের পরিচয় হয়। মাত্র পাঁচ দিন আগের সেই চ্যাটিং দ্রুতই প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। প্রেমের টানে ওই যুবক গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে সরাসরি তার শ্বশুরবাড়িতে চলে আসে এবং কৌশলে নিজেকে ‘খালাতো ভাই’ পরিচয় দেয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী রাহীম বিয়ের কয়েক মাস পরেই স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে আবারও দুবাই চলে যান। বাড়িতে কেবল রাহীমের বৃদ্ধ বাবা ও তার স্ত্রী থাকতেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই গৃহবধূ নিজেই নীরবকে তার শ্বশুরবাড়িতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। রাতের খাবার শেষে নীরবকে আলাদা একটি রুমে ঘুমাতে দেওয়া হয়। পরে শ্বশুর ঘুমিয়ে পড়লে ওই গৃহবধূ গভীর রাতে নীরবের ঘরে যান। বাড়িতে অন্য কোনো সদস্য না থাকলেও বিষয়টি টের পান প্রতিবেশীরা। তারা গভীর রাতে বাড়িটি ঘেরাও করে এবং একই ঘর থেকে ওই যুবক ও প্রবাসীর স্ত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে রাতেই ওই বাড়িতে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
আটকের পর স্থানীয়রা বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করলে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আটক যুবক ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ে করতে এক পায়ে খাড়া থাকলেও বেঁকে বসেন স্বয়ং নারী। তিনি ওই যুবককে বিয়ে করতে কোনোভাবেই রাজি নন বলে সাফ জানিয়ে দেন। তার দাবি, মাত্র পাঁচ দিনের চ্যাটিংয়ের জেরে তিনি নিজের সাজানো সংসার ভাঙতে রাজি নন।
স্থানীয় বাসিন্দা সৈকত ও রিয়াদ বলেন, ‘ফেসবুকের প্রেম যে এতটা অন্ধ হতে পারে, তা এ ঘটনা না দেখলে বিশ্বাস করা যেত না। ছেলেটি তো বিয়ে করতে উন্মুখ, কিন্তু মেয়েটি এখন আর তাকে চেনে না।’ স্থানীয় মাতব্বরেরা বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ওসি মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন