বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে জাল বা ভুয়া সনদ দিয়ে চাকরি করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত দুই দিনে ৮৫ শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। এর মধ্যে গত শনিবার প্রথম ধাপে স্কুল পর্যায়ের ৬১ জনকে ও গতকাল রোববার কলেজ পর্যায়ের ২৪ জনসহ মোট ৮৫ জনকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মাউশির বেসরকারি কলেজ শাখা-৩-এর সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শাখা থেকে ৮৫ জন জাল বা ভুয়া সনদধারী শিক্ষকের তালিকা পাঠানো হয়েছে। এনটিআরসিএর যাচাইয়ে তাদের প্রত্যয়নপত্র জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
সূত্র জানায়, সনদ জাল বা ভুয়া বলে চিহ্নিত হওয়া ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে মাউশি। এর মধ্যে স্কুল পর্যায়ের ৪০২ জন, কলেজ পর্যায়ের ৬৪ জন ও কারিগরি পর্যায়ের ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। এসব শিক্ষকের মধ্যে গত দুই দিনে ৮৫ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলো।
অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মাউশির কারণ দর্শানো নোটিশে জাল প্রত্যয়নপত্রধারীদের বিরুদ্ধে এমপিও বাতিল, বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া সরকারি অর্থ ফেরত আদায় এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) এসব শিক্ষকের সনদ জাল বা ভুয়া বলে চিহ্নিত করেছিল। এর ভিত্তিতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তালিকাসহ সুপারিশ পাঠায় ডিআইএতে। পরে মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাউশিকে চিঠি দেয়। এখন মাউশি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও আর্থিক স্বচ্ছতা আনতে দেশের মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে পরিদর্শন করে ডিআইএ। ডিআইএর তদন্ত অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সুপারিশ করে থাকে।

