রাজধানী ওয়ারী এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী, অস্ত্র ও মাদক কারবারি ইসমাইল হোসেন ওরফে সজল ওরফে ‘অটো সজল’কে (৩১) তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, মাদক ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র থানা থেকে লুট হওয়া বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য আসামিরা হলেন- মো. বাপ্পী (২৮), মো. হানিফ (৪০) ও মোছা. শামসুন্নাহার (৪৫)।
এদিকে, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা পৃথক দুই মামলায় সজল ওরফে ‘অটো সজল’ ও তার তিন সহযোগীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর মধ্যে অস্ত্র মামলায় চার দিন ও মাদক মামলায় এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ডে নেওয়া অপর তিনজন হলেনÑ বাপ্পী, হানিফ ও মোছা. শামসুন্নাহার। গতকাল তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অস্ত্র মামলায় সাত দিন ও মাদক মামলায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান অস্ত্র মামলায় চার দিন ও মাদক মামলায় এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গে-ারিয়া থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মশিউর রহমান সোহান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অটো সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি জানান, সজলকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বামীবাগের একটি ভাড়া বাসায় অস্ত্র ও মাদক মজুত রাখার কথা স্বীকার করেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে দুটি টরাস ব্র্যান্ডের পিস্তল, ৪টি ম্যাগাজিন এবং ৭৭ রাউন্ড তাজা গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন এবং হেরোইন প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত ৮৭ গ্রাম মেডি, মাদক বিক্রির নগদ ২২ হাজার ৯৬০ টাকাসহ অপরাধমূলক কর্মকা-ে ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, গত ২ মার্চ সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক পরিদর্শক গুলিবিদ্ধ হন। মামলাটি তদন্তের সময় ওয়ারী থানা পুলিশ প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের হেফাজত থেকে তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করে। পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তাররা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার ওপর হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি সরবরাহ করেছিল ওয়ারীর শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং অস্ত্র-মাদক কারবারি সজল ওরফে অটো সজল। এর পর থেকেই অটো সজলকে গ্রেপ্তারের জন্য ওয়ারী বিভাগের বিভিন্ন থানা পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, অটো সজল দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র সরবরাহ ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। সজল পেশায় একটি পরিবহনের হেলপার হলেও আড়ালে তিনি এসব অপরাধমূলক কর্মকা- পরিচালনা করতেন। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ১১টি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা রুজু করাসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলেও জানিয়েছেন ডিএমপির এ কর্মকর্তা। এ সময় ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামীসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

