বরিশাল শহরে যাত্রী পরিবহনকারী ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। ভাড়া নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গতকাল রোববার সকালে শতাধিক গণপরিবহন আটকে রাখা হয়। এদিন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় অটোরিকশাগুলো আটক করে রাখা হয় সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ক্যাম্পাসে। পরে জেলা প্রশাসন ভাড়া নির্ধারণের আশ^াস দিলে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কিছুদিন ধরে নগরীতে ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। নথুল্লাবাদ থেকে লঞ্চঘাট এবং নথুল্লাবাদ-চৌমাথা থেকে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অন্তত ১০-২০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এই অনিয়ম রোধে সপ্তাহখানেক আগে সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। কিন্তু ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা গতকাল সকাল থেকে অটোরিকশাগুলো আটক করেন।
তাদের দাবি, ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নির্ধারণ করে দিতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে কোনো ধরনের অটোরিকশা শহরে চলতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে অটোরিকশাচালকরা জানান, গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা ভাড়া বাড়িয়েছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গ্যাস বাবদ ৬৫০ এবং মালিকের জমা ৬০০ টাকা মিলিয়ে প্রতিদিন ১ হাজার ২৫০ টাকা জমা দিতে হয়। ফলে তাদের সংসার চালানোর মতো টাকা থাকে না। তবে শিক্ষার্থীদের আটক অভিযানের পর নির্ধারিত ভাড়া নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অটোরিকশাচালকরা।
মো. নান্নু এবং মো. মামুনসহ অটোরিকশাচালকরা জানান, আগামীতে তারা এক পয়সাও অতিরিক্ত আদায় করবেন না। বরং সিটি করপোরেশন বা জেলা প্রশাসন যে ভাড়া নির্ধারণ করবে, তাতেই সন্তুষ্ট থাকবেন।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) লুৎফর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের নিয়ে বিএম কলেজ এবং পুলিশ প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বৈঠক হয়েছে। সেখানে সোমবার জেলা প্রশাসন থেকে ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। এ নিয়ে সোমবার আবার বৈঠক হবে। ওইদিন থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর হবে। উভয়পক্ষ সিদ্ধান্তে সম্মতি প্রকাশ করায় বিকেল সোয়া ৩টার দিকে আটক করা যানবাহন ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান ওসি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন