আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে দেশে দ্রুত সমন্বয় করা হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে আর খবর থাকে না। ইরান যুদ্ধ শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও জুলাই মাসের জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে ভোক্তাদের কোনো ছাড় দেয়নি সরকার। জুলাই মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
জুন মাসের মতোই প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপনটি গতকাল জ্বালানি বিভাগ জারি করে।
ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দফায় ১৯ এপ্রিল ও ১ জুন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়। এর মধ্যে গত ১৯ এপ্রিল বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়। ডিজেলের দাম ১০০ থেকে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ থেকে ১৩০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা প্রতি লিটার নির্ধারণ করা হয়।
তখন (গত ২০ এপ্রিল) ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ৯৪ দশমিক ১৩ ডলার। এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ১১৫ ডলারে উঠেছিল। এক লাফে অনেকটা দাম বাড়ানোর পর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। দাম কমলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা আবার কমানো হবে।
এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে থাকে। গত ২৫ মে থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অনেকটা স্থিতিশীলতা দেখা যায়। ২৫ মে এক দিনেই ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম ৮ ডলার কমে ১০৮ থেকে ১০০ ডলারে নেমে আসে। এরপরও এই কমার ধারা অব্যাহত ছিল। গত ২৯ মে ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম আরও ৮ ডলার কমে ৯২ ডলারে দাঁড়ায়।
এর মধ্যেই ১ জুন ২০২৬ থেকে আরেক দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। ফলে বর্তমান দাম দাঁড়ায়Ñ অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার। তবে ওই সময় ডিজেলের দাম না বাড়িয়ে আগের দাম ১১৫ টাকা প্রতি লিটার রাখা হয়।
গত ১১ জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও এরপর তা কমতে থাকে। ওই সময়ের পর গত ২০ দিনে ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম আরও ২০ ডলার কমে প্রায় ৭০ ডলারের আশপাশে নেমে আসে।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান সংসদে জানান, প্রতিদিন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি তেল বিক্রি করে ৭৮ কোটি টাকা লোকসান করছে। সংসদে মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর জ্বালানি তেলের মূল্য কমার আশা ফিকে হয়ে যায়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন