রাজধানীর বাড্ডায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর অলিউর রহমান ওরফে অলি (২৪) নামের এক অটোরিকশাচালকের মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর বাড্ডায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক অটোরিকশাচালককে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসআই মো. মাহমুদুল হাসান জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব বাড্ডার একটি পরিত্যক্ত জমিতে পলিথিনে মোড়ানো ও মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় অলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মাথার পেছনে, বাম কানের নিচে এবং মাথার ওপরের অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া একটি ফুলহাতা শার্ট দিয়ে তার মুখম-ল শক্ত করে বাঁধা ছিল।
নিহতের খালাতো ভাই রুবেল জানান, গত ২১ জুলাই থেকে অলি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। অলিউর পূর্ববাড্ডার জোড়াখাম্বা এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফপুর গ্রামে। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফপুর গ্রামের মৃত আসাদ মিয়া ও নাজমা বেগমের ছেলে। এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। বর্তমানে তিনি পূর্ববাড্ডার জোড়াখাম্বা এলাকায় কামরুল নামে এক ব্যক্তির বাসায় ভাড়া থাকতেন।
এসআই বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ এবং পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকা- সংঘটিত হতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার অটোরিকশাটি উদ্ধার হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন পূর্ববাড্ডার বালুর মাঠ এলাকায় ময়লার স্তূপের পাশে অলির ব্যবহৃত একটি স্যান্ডেল এবং রক্তমাখা একটি পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে অনুসন্ধান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অলিউরের খালাতো ভাই রুবেল মিয়া বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে অলিউর নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে তার অটোরিকশাটি উদ্ধার হলেও তিনি নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার পূর্ববাড্ডার বালুর মাঠ এলাকায় ময়লার স্তূপের পাশে অলিউরের ব্যবহৃত এক জোড়া স্যান্ডেল ও রক্তমাখা একটি পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি বাড্ডা থানায় জানানো হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
রুবেলের দাবি, অলিউরের এক বন্ধু জাহিদ কাপড়ের ব্যবসা করেন। কয়েক মাস আগে অলিউর তার মা নাজমা বেগমের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ধার নিয়ে জাহিদকে দিয়েছিলেন। পরে টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পরিবারের ধারণা, সেই বিরোধের জেরেই অলিউরকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন