পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে দুর্নীতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ১০৭৭.১১ কোটি (সুদাসলে ১২৮১.৪৫ কোটি) টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ ৩১ জনের নামে মামলা অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেনÑ আদিল কপোরেশনের মোহাম্মদ মোস্তান বিল্লাহ আদিল, এস আলম কোল্ড রুলড স্টিলসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আব্দুস সামাদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান গনি, এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক রাশেদুল আলম, ইনফিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজের হিসাব পরিচালনাকারী আশরাফুল আলম, এস আলম গ্রুপের পরিচালক ফারজানা পারভীন, মেসার্স জেনেসিস এন্টারপ্রাইজের মালিক আহসানুল আলম, মেসার্স মায়মুনা ট্রেডিংয়ের মালিক মায়মুনা খানম, চেমন ইস্পাতের চেয়ারম্যান শারমিন ফাতেমা, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি মিফতাহ উদ্দীন, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাব্বির, ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুব উল আলম ও মোহাম্মদ মনিরুল মাওলা, ব্যাংকটির সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ কায়সার আলী, ইসলামী ব্যাংকের সিলেট জোনের সাবেক এসভিপি মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম, ব্যাংকটির সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আইটি প্রধান মোহাম্মদ সিরাজুল কবির, ব্যাংকটির সিলেট জোনের সাবেক এসভিপি তাহের আহমেদ চৌধুরী। ডিগনিটি বিজনেস হাউসের মালিক মো. সাইফুদ্দীন, ইউনাইটেড সুপার ট্রেডার্সের মালিক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী, মেসার্স মিনহাজ করপোরেশনের মালিক এমদাদুল ইসলাম (মিনহাজ), জিনিয়াস ট্রেডিংয়ের মোহাম্মদ আবুল কালাম, ক্রাফট বিজনেস অ্যান্ড ট্রেডিং হাউসের মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী, এপারচার ট্রেডিং হাউসের মালিক এস এম নেছার উল্লাহ, মেসার্স দুলারী এন্টারপ্রাইজের মারিক মো. ছাদেকুর রহমান, ইউনিক ট্রেডার্স অ্যান্ড বিজনেস হাউসের মালিক মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম, মেসার্স আনসার এন্টারপ্রাইজের মালিক আনছারুল আলম চৌধুরী, গ্রীন এক্সপোস ট্রেডার্সের মালিক এম এ মোনায়েম, ইসলামী ব্যাংকের বরিশাল জোনের সাবেক এসভিপি মো. মনজুর হাসান ও আইআইএস কনসালটিং বিডির এমডি ও চিফ সার্ভেয়র মো. ওয়াহিদুর রহমান।
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানান, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নামসর্বস্ব ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া কাগজপত্র সৃজন করে বিনিয়োগ প্রস্তাব (ঋণ প্রস্তাব) শাখা থেকে প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ ও ঋণ অনুমোদন, একই প্রক্রিয়ায় যথাযথ যাচাই ছাড়া ও ঋণযোগ্যতা নিরূপণ না করে ঋণসীমা বৃদ্ধি এবং ঋণের নামে গৃহীত ১০৭৭.১১ কোটি (সুদাসলে ১২৮১.৪৫ কোটি) টাকা পরবর্তীতে মোহাম্মদ সাইফুল আলম, চেয়ারম্যান, এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির মাধ্যমে স্থানান্তর/রূপান্তর/হস্তান্তরপূর্বক আত্মসাৎ করে সম্পৃক্ত অপরাধ সংঘটনের দায়ে দ-বিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯/৪২০/১০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় বৃহস্পতিবার মামলাটি অনুমোদন দেয় কমিশন।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন