ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রভাবশালীদের কাতারে তারেক রহমান : উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রত্যাশা

রেজাউল করিম খোকন, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার, কলাম লেখক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৪:৩৩ এএম

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন। মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টাইম ম্যাগাজিন সম্প্রতি এ তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, পোপ লিও চতুর্দশ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিসহ বিভিন্ন খ্যাতিমান ব্যক্তি স্থান পেয়েছেন। ‘লিডারস’ (নেতৃত্ব) ক্যাটাগরিতে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টাইম ম্যাগাজিন প্রধানমন্ত্রীর প্রোফাইলে লিখেছে, কয়েক মাস আগেও দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন তারেক রহমান।

কিন্তু ২০২৪ সালে স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন হলে তিনি বিরোধী আন্দোলনের নেতা থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতায় পরিণত হন, ১৭ বছর মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর ফেব্রুয়ারিতে বিপুল ভোটে জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সেই গন্তব্যে পৌঁছান। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ বিজয়ের মাধ্যমে তিনি তার মা খালেদা জিয়ার পথ অনুসরণ করেন, যিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ঢাকায় তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পাঁচ দিনের মাথায় মারা যান। গত জানুয়ারিতে টাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেছিলেন, ব্যক্তিগত শোককে তিনি দেশের ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজে নিয়োজিত করবেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, তরুণদের বেকারত্ব এবং আঞ্চলিক শক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিÑ এসব চ্যালেঞ্জ দ্রুত সমাধানের দাবি রাখে। এতে আরও বলা হয়, অতীতের দুর্নীতির অভিযোগের (যদিও আদালতে খারিজ হয়েছে) কারণে  তার ‘হানিমুন পিরিয়ড’  অন্যদের তুলনায় সংক্ষিপ্ত হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নির্বাসনের পর তিনি সময় নষ্ট করতে চান না। তারেক রহমান টাইমকে বলেছেন, আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবেÑ যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার পায়। ম্যাগাজিনে তারেক রহমানকে নিয়ে মুখবন্ধটি লিখেছেন টাইমের এডিটর-অ্যাট-লার্জ ও ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ চার্লি ক্যাম্পবেল। লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবুজে ঘেরা পরিবেশে ‘নির্ভার এক নির্বাসিত জীবন’ কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ‘স্বৈরাচারী’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতন হলে ৫৭ বছর বয়সি তারেক রহমান বিরোধী দলের আন্দোলনকারী থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতায় পরিণত হন। ১৭ বছর মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর ফেব্রুয়ারিতে বিপুল ভোটে জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সেই গন্তব্যে পৌঁছান।

জানুয়ারিতে যখন তারেক রহমান ‘টাইম’-এর সঙ্গে কথা বলেন, তখনো তার শোকের ক্ষত তরতাজা। তবে তিনি এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশটিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে পুনরায় চাঙা করে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মুখবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বে জর্জরিত। অন্যদিকে আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও তলানিতে পৌঁছেছে। এসব সংকট দ্রুত সমাধানের চ্যালেঞ্জ রয়েছে তারেক রহমানের সামনে। টাইম ম্যাগাজিন লিখেছে, শূন্য দশকের দুর্নীতির অভিযোগগুলোর কারণে (যদিও পরে আদালত সেগুলো খারিজ করে দিয়েছে) তারেক রহমানের সম্ভাব্য ‘হানিমুন পিরিয়ড’ অন্যদের তুলনায় সংক্ষিপ্ত হয়ে যেতে পারে। তবে এত বছর নির্বাসনে কাটানোর পর, তিনি আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করতে বদ্ধপরিকর। তারেক রহমানের বক্তব্য থেকে উদ্ধৃত করে মুখবন্ধে বলা হয়েছে, ‘আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার পায়।’

বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের বিবেচনায় সেরা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় তারেক রহমানের স্থান লাভ বাংলাদেশের জন্য একটি অনন্য অর্জন। আজকের বৈশ্বিক স্বীকৃতি গণতন্ত্রের বিজয়, জনতার বিজয়, বাংলাদেশের বিজয় বলে মনে করি আমরা। তিনি প্রমাণ করেছেন, ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই একজন নেতার প্রকৃত শক্তি, দেশ পরিচালনাকে তিনি ক্ষমতা হিসেবে নয়, দেখতে চান দায়িত্ব হিসেবে। দেশের স্বার্থে কোনো বিভাজন নয়, বরং ইস্পাত কঠিন দৃঢ় ঐক্যই একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে এখন বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তারেক রহমান। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন গত জানুয়ারি মাসে তাকে নিয়ে একটি বিশাল বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।

সেখানে তাকে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল ‘প্রত্যাবর্তনকারী উত্তরাধিকারী’ হিসেবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কণ্ঠস্বর ভাঙা ও শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকায় ফেরার সংকল্প স্পষ্ট তারেক রহমানের। দেশে ফেরার কয়েকদিনের মধ্যেই তার মা ও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু তাকে ব্যক্তিগতভাবে ভীষণভাবে নাড়া দিলেও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে তিনি অনড়। টাইমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেছিলেন, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দেশের মানুষ তাকে যে আস্থা দিয়েছে, সেটাই তার রাজনীতিতে থাকার প্রধান কারণ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, তিনি শুধু পারিবারিক পরিচয়ের কারণে রাজনীতিতে নেই, বরং দলের সমর্থকরাই তাকে সামনে এনেছে।

দেশে ফেরার পর এটাই ছিল তারেক রহমানের প্রথম সাক্ষাৎকার। তখন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে এগিয়ে থাকা প্রার্থী। তৎকালীন জনমত জরিপ অনুযায়ী, তার নেতৃত্বাধীন বিএনপির প্রতি প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে। তবে, একই সঙ্গে উঠে এসেছিল উদ্বেগও। অতীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকাকালে বিএনপির বিরুদ্ধে ওঠা নানা ধরনের অভিযোগ উল্লেখ করে সংশয় প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনে। তারেক রহমান সব ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। জোর গলায় তার দাবি ছিল, আগের মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকার সেগুলো বাতিল করেছে। তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করলে বিচার হবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দিয়ে দেশ চালানো যাবে না।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রায় ৩ হাজার ৩০০ শব্দের বিশাল প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিও বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, টাকার দুর্বল মান, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং যুব বেকারত্ব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করলেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে নাÑ এ বিষয়টি তারেক রহমানের জন্য বড় পরীক্ষা বলে উল্লেখ করেছিল টাইম। সেই প্রতিবেদনে নীতিগতভাবে তাকে একজন ‘টেকনোক্র্যাটিক’ রাজনীতিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তিনি খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, ঢাকায় নতুন সবুজ অঞ্চল তৈরি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে অংশীদারিত্বের পরিকল্পনার কথা বলেছেন। তারেক রহমানের বিশ্বাস, এসব পরিকল্পনার ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারলেও জনগণ তাকে সমর্থন করবে। প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচারী উল্লেখ করে তার পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর, ছাত্র আন্দোলন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ইসলামপন্থি রাজনীতির উত্থান নিয়েও বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টা এখনো অসম্পূর্ণ এবং নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ কোন পথে যাবে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

তারেক রহমান নিজেকে তুলনামূলকভাবে নরম ও শ্রোতা-মনস্ক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন। রাস্তায় মানুষ যেন নিরাপদ থাকে, ব্যবসা করতে পারেÑ এটাই তার প্রথম অগ্রাধিকার বলে তিনি বলেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করে বলেন, আজ কাউকে নিষিদ্ধ করলে কাল তাকেও নিষিদ্ধ করা হতে পারে। টাইম ম্যাগাজিনের মূল্যায়নে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আশার সঞ্চার করেছে ঠিকই, তবে অতীতের ভার, দলীয় শৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতাÑ এই তিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে সেই আশা দ্রুতই ম্লান হয়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনের শেষাংশে তারেক রহমান স্পাইডারম্যান সিনেমার একটি সংলাপ উদ্ধৃত করে বলেছিলেন, ‘বড় ক্ষমতার সঙ্গে বড় দায়িত্বও আসে। আমি মনেপ্রাণে এটি বিশ্বাস করি।’

ইংল্যান্ডে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে। বাস্তবতা হলো, তার জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাদাসিধে ও সংযত। একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির সন্তান এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতা হয়েও তিনি বিলাসিতা বা আড়ম্বরের পথে হাঁটেননি। লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল শহরেও তিনি সাধারণ নাগরিকের মতো জীবন যাপন করেছেন। এই অনাড়ম্বর জীবনবোধই তাকে জনগণের কাছের মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ক্ষমতা বা বিত্তের অহংকার থেকে দূরে থেকে তার এই জীবনদর্শন প্রমাণ করেÑ তার রাজনীতি ব্যক্তিগত ভোগের জন্য নয়, বরং একটি কল্যাণমুখী ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন বাংলাদেশ দীর্ঘ এক ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথে এগোচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী নেতৃত্বে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে তার আগমন নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। আজকের তরুণরা, যারা দীর্ঘদিন ধরে একটি রুদ্ধশ্বাস রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হয়েছে, তারা তারেক রহমানের মাঝেই তাদের ভবিষ্যতের পথনির্দেশনা খুঁজে পেয়েছে। এই তরুণরাই গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে লড়াই করেছে, রক্ত দিয়েছে। তাদের এই দীর্ঘ সংগ্রামে সাহস ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান নিজেই। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক চিন্তায় বিশ্বাসী এই প্রজন্ম দেখেছেÑ কীভাবে একজন নেতা শত প্রতিকূলতার মাঝেও অবিচল থেকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে পারেন। তার নেতৃত্ব তরুণদের শিখিয়েছে, ন্যায়ের পথে কখনো পিছপা হতে নেই। তার আগমনে তরুণরা উজ্জীবিত হয়েছে, কারণ তারা বিশ্বাস করেÑ তারেক রহমানের হাত ধরেই গড়ে উঠবে এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে বাকস্বাধীনতা থাকবে, মেধার মূল্যায়ন হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নেওয়া হবে। তারেক রহমানের এই ঘরে ফেরা কেবল একজন ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন নয়; এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের এক পুনর্জন্ম।

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজয়ী হয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি। আগামীর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আস্থাশীল হয়ে সাধারণ মানুষ বিপুলভাবে ম্যান্ডেট দিয়েছে এই দলটিকে। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের চরম দুঃশাসনের পর একজন যোগ্য নেতা হিসেবে তারেক রহমানের ওপর আস্থা রেখেছেন এদেশের মানুষ। পিতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমান সবার মনে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন আরও আগেই। দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে। হাজার হাজার মাইল দূরে সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে থাকলেও দেশের রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল ওতপ্রোতভাবে। বিদেশে থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নানা দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন তিনি। দিনে দিনে তিনি একজন পরিপক্ব রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে যোগ্য চৌকশ করে তুলেছেন। তার গোছানো বক্তব্যগুলোত তার নতুন দিনের রাজনৈতিক ভাবনা, উন্নয়নের নয়া কলাকৌশল, আধুনিক সময়ের উপযোগী স্ট্রাটেজি ইত্যাদি সম্পর্কে দেশের মানুষ ধারণা পেয়েছে। এমনিতেই তিনি সবার মনে আস্থার জায়গাটি দখল করে নিতে সক্ষম হয়েছেন।

ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত দুই আড়াই মাসে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকা-ের বিচার-বিশ্লেষণ করলে আমরা বাংলাদেশের একজন প্রগতিশীল আধুনিক মনস্ক নতুন রাজনৈতিক নেতার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই তার মাঝে। এদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করে এরই মধ্যে সবার মনে আশার সঞ্চার করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড কর্মসূচির পাশাপাশি খাল খনন কর্মসূচির সূচনা হয়েছে তার হাত ধরেই। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, বিনিয়োগ ও ব্যবসার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন নতুন গন্তব্য দেশ খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এতকিছুর পরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণ এবং চাঁদাবাজি ইত্যাদি অনাকাক্সিক্ষত ব্যাপার ঘটছে; যা তার ইমেজের জন্য হুমকিস্বরূপ। আশা করি, তিনি এসব বিষয়ে সচেতন রয়েছেন। সব ধরনের প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে সক্ষম হবেন তিনি খুব শিগগিরই।