× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৬, ০৬:২৭ এএম

সম্পাদকীয়

শিশুদের নিরাপত্তায় কঠোর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ জরুরি

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৬, ০৬:২৭ এএম

শিশুদের নিরাপত্তায় কঠোর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ জরুরি

‘বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’Ñ এই বহুল উচ্চারিত সত্যবাক্য আজ নির্মম বাস্তবতার কাছে পরাজিত। যে শিশুদের হাসি-আনন্দে ভরে থাকার কথা ঘর, উঠান ও বিদ্যালয়, তারাই আজ সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে। পরিবার, প্রতিবেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোথাও নিরাপত্তা নেই তাদের। সমাজের একাংশে এমন এক বিকৃত ও নিষ্ঠুর মানসিকতার বিস্তার ঘটেছে, যেখানে শিশুদেরও রেহাই মিলছে না ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা জাতিকে শুধু শোকাহতই করেনি, ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিতও করেছে।

ঢাকার পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা, মাগুরায় আছিয়া, ঠাকুরগাঁওয়ে চার বছরের লামিয়া কিংবা সিলেটের ফাহিমাÑ এসব নাম এখন কেবল পরিসংখ্যান নয়; রাষ্ট্র ও সমাজের ব্যর্থতার নির্মম প্রতীক। চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় জনরোষ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এটি শুধু বিচ্ছিন্ন ক্ষোভ নয়; বরং বিচারহীনতা ও রাষ্ট্রীয় দুর্বলতার বিরুদ্ধে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধের সঙ্গে পরিচিতজন, প্রতিবেশী বা আত্মীয়স্বজন জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে আসছে। অর্থাৎ শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা যে পরিবার ও সমাজ, সেটিই এখন তাদের জন্য ভয়ংকর ফাঁদে পরিণত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকৃত যৌন মানসিকতা, সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক সহিংসতা, মাদকাসক্তি, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি, এসব কারণ মিলেই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে।

বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষায় কম আইন নেই। শিশু আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, শিশু অধিকার সনদ সবই রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আইনের প্রয়োগ প্রায় অনুপস্থিত। তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থতা, রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ, অর্থের বিনিময়ে আপস, এসব কারণে অধিকাংশ মামলার বিচার শেষ হয় না। ফলে অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে এবং অপরাধের প্রবণতাও বাড়ছে। বিচারহীনতা যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন অপরাধীর সাহস বাড়ে, সমাজে ভয় কমে যায়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পরিসংখ্যান ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। গত কয়েক বছরে দেশে হাজার হাজার শিশু ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ছয় মাস থেকে ১২ বছর বয়সি কন্যাশিশুরা। এমনকি ছেলেশিশুরাও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এসব ঘটনার একটি বড় অংশ লোকলজ্জা, সামাজিক চাপ কিংবা প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে ধামাচাপা পড়ে যায়। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।

শুধু আইন করলেই হবে না, আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করা প্রয়োজন। তদন্তে গাফিলতি বা বিলম্বের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা, মানসিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

তবে কেবল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধও। পরিবারে নৈতিক শিক্ষা, বিদ্যালয়ে সচেতনতা, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক ভূমিকা এবং শিশুদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের ‘চুপ থাকতে শেখানো’ নয়, বরং নিজেদের সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। প্রতিবেশী সমাজকেও সন্দেহজনক আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

আমরা মনে করি, একটি সভ্য রাষ্ট্রের মানদ- নির্ধারিত হয় সে রাষ্ট্র শিশুদের কতটা নিরাপত্তা দিতে পারছে তার ওপর। যদি শিশুরাই নিরাপদ না থাকে, তবে উন্নয়ন, অগ্রগতি কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সব দাবিই অর্থহীন হয়ে পড়ে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো দয়া নয়, এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

আমরা আশা করব, রাষ্ট্র জরুরিভিত্তিতে কঠোর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং সামাজিক মূল্যবোধ পুনর্গঠনের মাধ্যমে শিশুদের জন্য সত্যিকারের নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!