ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপান্তর পেরিয়ে ২০২৬ সালে এসে দেশের ই-কমার্স খাত শুধু একটি বিকল্প কেনাকাটার মাধ্যম নয়, বরং উৎসবকালীন অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার কেনাকাটায় শপিংমলের চিরচেনা ভিড় উপচে পড়েছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব), *সেন্টার ফর ডিজিটাল কমার্স রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি এবং খাত সংশ্লিষ্টদের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যমতে, এবারের ঈদে ডিজিটাল কমার্স খাতে এক অভূতপূর্ব ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে এই বিশাল অর্ডারের মহাসড়কে যেমন ছিল ডেলিভারি ও লজিস্টিকস কোম্পানির অভাবনীয় সক্ষমতার পরীক্ষা, তেমনি ছিল রিটার্ন রেট, ফেক অর্ডার এবং ‘ভুঁইফোড়’ বা ফেক উদ্যোক্তাদের তৈরি করা কিছু নেতিবাচক চ্যালেঞ্জ।
সামগ্রিকভাবে কেমন গেল এবারের ঈদের ই-কমার্স বাজারÑ তার একটি বস্তুনিষ্ঠ, পরিসংখ্যানগত ও নীতিনির্ধারণী বিশ্লেষণ নিচে তুলে করা হলো।
বাজারের আকার ও অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান
চলতি ২০২৬ সালে বাংলাদেশের ই-কমার্স বাজারের আকার এবং বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি প্রবৃদ্ধি হার (ঈঅএজ) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশীয় মার্কেট সাইজ বর্তমানে আনুমানিক ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে (প্রায় ৬০,০০০ থেকে ৬৫,০০০ কোটি টাকা) উন্নীত হয়েছে। বিভিন্ন অর্থনৈতিক জার্নাল, গবেষণা সংস্থা ও এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক খুচরা অর্থনীতির প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ এখন ডিজিটাল কমার্সের নিয়ন্ত্রণে, যার সিংহভাগ লেনদেন হয় দুই ঈদ বা উৎসবকেন্দ্রিক বাজারে। রমজান ও দুই ঈদ মৌসুম মিলিয়ে দেশের মূলধারার ই-কমার্স সাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক এফ-কমার্স পেজগুলোতে মোট অর্ডারের সংখ্যা আনুমানিক ২ কোটি থেকে ২.৫ কোটি ছাড়িয়েছে। আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ একক ক্রেতা এবার অনলাইনে ন্যূনতম একটি হলেও পণ্য বা সেবা অর্ডার করেছেন।
চাহিদার শীর্ষে থাকা পণ্যসমূহ : ফ্যাশন থেকে স্মার্ট লাইভস্টক ও কুইক-কমার্স
এবারের ঈদে ট্র্যাডিশনাল ফ্যাশনের পাশাপাশি লাইফস্টাইল, ইলেকট্রনিক্স এবং কোরবানির পশুর ডিজিটাল বাজার ই-কমার্সের পরিধিকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মোট অর্ডারের প্রায় ৪৫-৫০% ছিল তৈরি পোশাক। এর মধ্যে পুরুষদের ক্যাজুয়াল শার্ট, প্রিমিয়াম পাঞ্জাবি এবং নারীদের সুতি ও লিনেন থ্রি-পিস, কটন শাড়ি এবং সেমি-ফর্মাল ড্রেসের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। জুতা এবং কসমেটিকস সামগ্রীও এই তালিকায় অন্যতম প্রধান ছিল। সেই সঙ্গে স্মার্টফোন, ওয়্যারলেস ইয়ারবাডস, স্মার্ট ওয়াচ এবং ঈদের রান্নাবান্নার সুবিধার্থে ব্লেন্ডার, ওভেন বা ফুড প্রসেসরের মতো হোম অ্যাপ্লায়েন্সের বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডিজিটাল পশুর হাট ও কোল্ড-চেইন অবকাঠামো
এবারের ঈদুল আজহায় দেশের ই-কমার্স বাজারে সবচেয়ে বড় চমক ছিল ‘স্মার্ট লাইভস্টক কমার্স’ বা অনলাইন পশুর হাট। ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারিদের সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমেছে। ওয়ান-স্টপ কোরবানি সার্ভিসÑ যেমন অনলাইনে পশু পছন্দ করা, পেমেন্ট করা এবং সম্পূর্ণ স্যানিটারি উপায়ে স্লটারিং (জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ) শেষে ঈদের দিন মাংস ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লজিস্টিকস সক্ষমতা এবার দারুণভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তথ্যমতে, এবার অনলাইনে পশু বিক্রির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে পশুর হাটের এই বিশাল সাফল্যের পাশাপাশি একটি কাঠামোগত চ্যালেঞ্জও এবার দৃশ্যমান হয়েছে। ঈদের দিন প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামার থেকে মাংস কাস্টমারের ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্রেশ ও স্বাস্থ্যসম্মত অবস্থায় পৌঁছানোর
কাস্টমার ডেমোগ্রাফি : ঢাকা বনাম প্রান্তিক অঞ্চল
এবারের ঈদের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পরিবর্তনটি এসেছে ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে। অনলাইন কেনাকাটা এখন আর শুধু ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের মতো মেগাসিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মোট অর্ডারের প্রায় ৪০-৪৫% এসেছে জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রান্তিক এলাকা থেকে। এবারের বাজারের মূল চালিকাশক্তি ছিল মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত তরুণ প্রজন্ম (বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছর)। বিশেষ করে কর্মজীবী নারী এবং তরুণ ফ্রিল্যান্সার বা চাকরিজীবীরা জ্যামের ভোগান্তি এড়াতে অনলাইনকে বেছে নিয়েছেন।
কুরিয়ার ও লজিস্টিকস খাতের সক্ষমতা
অর্ডারের বিপুল চাপ সামলাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় লজিস্টিকস ও কুরিয়ার কোম্পানিগুলো এবার বেশ প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি নিয়েছিল। ঈদের ঠিক ৭ থেকে ১০ দিন আগে যখন অর্ডারের গ্রাফ খাড়া হয়ে ওপরের দিকে উঠছিল, তখন কুরিয়ার কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত জনবল ও খ-কালীন ‘ডেলিভারি রাইডার’ নিয়োগ করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। ঢাকার ভেতরে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং ঢাকার বাইরে ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ডেলিভারি নিশ্চিত করার হার ছিল প্রায় ৮৮-৯০%。কুরিয়ার কোম্পানিগুলো তাদের সোর্সিং হাব ও শর্টিং সেন্টারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করায় এবার ব্যাকলগ বা জটলা তুলনামূলক কম হয়েছে।
অন্ধকার দিক : রিটার্ন রিফান্ড, ফেক অর্ডার ও ভুঁইফোড় উদ্যোক্তা
ঈদের বাজার যখন রমরমা, ঠিক তখনই কিছু চিরাচরিত সমস্যা এবং নতুন কিছু জালিয়াতির ঘটনা পুরো খাতের সুনামে কিছুটা দাগ ফেলেছে। ক্যাশ অন ডেলিভারির সুযোগ নিয়ে অনেক ক্রেতা একই পণ্য ৩-৪টি পেজ থেকে অর্ডার করেন এবং যেটি আগে আসে সেটি রেখে বাকিগুলো রিজেক্ট করেন। এবারের ঈদে এফ-কমার্স ও সাধারণ ই-কমার্সে গড় রিটার্ন রেট ছিল ১৫% থেকে ১৮%, যা ক্ষুদ্র নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে। এটি ই-কমার্স খাতের একটি নীরব ঘাতক হিসেবে রূপ নিয়েছে।
কিছু অসাধু চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে শত শত ‘ফেক অর্ডার’ প্লেস করেছে। পণ্যটি কুরিয়ারে যাওয়ার পর কাস্টমারকে না পাওয়ায় উদ্যোক্তাদের দ্বিমুখী কুরিয়ার চার্জ বহন করতে হয়েছে।
প্রতি ঈদের মতো এবারও ফেসবুক ও টিকটকে একশ্রেণির ‘ভুঁইফোড়’ বা ফেক পেজের আবির্ভাব ঘটে। তারা আকর্ষণীয় অফার বা নামি ব্র্যান্ডের ছবি চুরি করে নকল বা অতি নি¤œমানের কাপড় সরবরাহ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে অগ্রিম টাকা নিয়ে পেজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
সামষ্টিক অর্থনীতি ও পরিবেশগত প্রভাব
এবারের ঈদের বাজারে ই-কমার্সের অবদান কেবল কেনাবেচার অংকেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দেশের সামষ্টিক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবেশ খাতে এর একটি ইতিবাচক সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
দেশব্যাপী তীব্র লোডশেডিং এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই সময়ে কোটি কোটি ক্রেতা সশরীরে শপিংমলে না গিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটা সম্পন্ন করেছেন। এর ফলে উৎসবের মৌসুমে রাস্তাঘাটে ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনের জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) যেমন সাশ্রয় হয়েছে, তেমনি বড় বড় শপিংমলগুলোতে শত শত মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও এসি ব্যবহারের জাতীয় চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
প্রাতিষ্ঠানিক অভিভাবকহীনতা
এবারের ঈদের বাজারের সবচেয়ে বড় এবং রূঢ় বাস্তবতার দিকটি ছিল প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে। দেশের ই-কমার্স খাতের মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে এক ধরনের চরম অভিভাবকহীনতা ও শূন্যতা অনুভব করেছেন।
দেশের ই-কমার্স খাতের একমাত্র ও প্রধান অ্যাসোসিয়েশন হওয়া সত্ত্বেও, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)-এর ভেতর যথাসময়ে সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সঠিক ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের বিকাশ ঘটেনি। সঠিক ও কার্যকর দিকনির্দেশনা, সঠিক তৃপ্তির নেতৃত্ব না থাকা এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের পক্ষে জোরালোভাবে কথা বলার মতো বলিষ্ঠ অভিভাবকত্বের অভাবে ই-ক্যাব বর্তমানে এক ধরনের স্থবিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ই-ক্যাবের এই বড় প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের মধ্যেও এবারের ই-কমার্স বাজারের যে বিশাল প্রবৃদ্ধি, তা কোনো অ্যাসোসিয়েশনের কৃতিত্বে হয়নি; বরং এটি সম্পূর্ণভাবে সম্ভব হয়েছে মাঠপর্যায়ের তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত মেধা, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং একক সাহসিকতার জোরে।
নীতিনির্ধারণী পলিসি ও টেকসই ভবিষ্যৎ ভাবনা
ডিজিটাল কমার্স খাতের এই বিশাল সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে এবং ঈদ উৎসবের বাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হলে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। এবারের ঈদের বাজারের অভিজ্ঞতা থেকে সেন্টার ফর ডিজিটাল কমার্স রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদেরা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও বৈপ্লবিক পলিসিগত পরিবর্তনের তাগিদ দিচ্ছেন।
বর্তমানে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য ডিবিআইডি বা ইউবিআইডি সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল, সময়সাপেক্ষ এবং নানা আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতায় পূর্ণ, যা তৃণমূলের উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে। এর চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও কার্যকর সমাধান হতে পারে, ট্রেড লাইসেন্সকেই একক ও সার্বজনীন ইউনিক বিজনেস আইডি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। নতুন কোনো আইডি কার্ডের ঝামেলায় না গিয়ে ট্রেড লাইসেন্সকেই মূল ট্র্যাকিং নম্বর হিসেবে ব্যবহার করা যৌক্তিক।
সমস্ত ট্রেড লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াকে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত শতভাগ অনলাইন, পেপারলেস ও ডিজিটাল করতে হবে। একজন প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তা যেন কোনো দপ্তরে না গিয়ে ঘরে বসেই তার স্মার্টফোনের মাধ্যমে এই লাইসেন্স সম্পন্ন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
যারা ফেসবুকে, ইনস্টাগ্রামে বা টিকটকে কমার্শিয়াল পেজ পরিচালনা করছেন বা বুস্টিং করছেন, তাদের জন্য এই অনলাইন ভেরিফাইড ট্রেড লাইসেন্স নম্বর প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করতে হবে। এই একটি পদক্ষেপ এক রাতেই দেশের ৮০% ফেক পেজের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে দেবে।
ক্যাশ অন ডেলিভারির খামখেয়ালিপনা রুখতে কুরিয়ার পলিসিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। কোনো কাস্টমার যদি পণ্য অর্ডার করার পর কোনো যৌথিক কারণ (যেমন: ছেঁড়া বা ভুল পণ্য) ছাড়া শুধু পছন্দ হয়নি বলে রিটার্ন করতে চান, তবে তাকে অগ্রিম কুরিয়ার চার্জ (ডেলিভারি ফি) পেজকে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে হবে। এটি নীতিগতভাবে বাস্তবায়ন করা হলে অহেতুক অর্ডারের হার ৭০% কমে আসবে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি বাঁচানো সম্ভব হবে।
লজিস্টিকস ও কুরিয়ার কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে এবং ঈউঈজঅ-এর নীতিগত নির্দেশনায় একটি কেন্দ্রীয় ও সচল ডেটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে যেমন ক্ষতিকর ‘ফেক কাস্টমার’ (যারা বারবার বিনা কারণে অর্ডার রিটার্ন করে ক্ষুদ্র মার্চেন্টদের ডেলিভারি খরচের লোকসানে ফেলে) তাদের চিহ্নিত করা যাবে, তেমনি ‘প্রতারক মার্চেন্ট’ উভয়কেই ব্ল্যাকলিস্ট করা সহজ হবে। কুরিয়ার কোম্পানিগুলোর অ্যাপে এই রেটিং বা ডেটাবেজ যুক্ত থাকলে ডেলিভারি দেওয়ার আগেই গ্রাহক বা মার্চেন্টের সততা যাচাই করা সম্ভব হবে।
সবকিছু মিলিয়ে ২০২৬ সালের ঈদের ই-কমার্স বাজারকে ‘রেকর্ড বিক্রি এবং আস্থার মিশ্র লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করা যায়। ব্যবসার পরিধি, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর গভীর প্রবেশ ছিল চমৎকার, যা দেশের সামষ্টিক খুচরা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে। তবে ফেক পেজ এবং ফেক অর্ডারের দুষ্টচক্র দমনে এখনো আরও কঠোর, আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির প্রয়োজন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন