× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৭:৩১ এএম

সম্পাদকীয়

গ্যাস সংকটের পুনরাবৃত্তি থামাতে হবে

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৭:৩১ এএম

গ্যাস সংকটের পুনরাবৃত্তি থামাতে হবে

দেশের জ্বালানি খাতের সামান্য একটি কারিগরি ত্রুটিই যদি মুহূর্তের মধ্যে পুরো অর্থনীতি ও জনজীবনকে অচল করে দিতে পারে, তবে বুঝতে হবে সমস্যাটি কেবল একটি এলএনজি টার্মিনালের নয়, আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থার গভীর কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। বর্তমানে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি স্টেশন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকা-ে। মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুলায় গ্যাস পাচ্ছে না, শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, পরিবহন খাতে বাড়ছে অচলাবস্থা। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এ ধরনের সংকট কেন বারবার ফিরে আসে?

সরকার বলছে, এটি সাময়িক সমস্যা এবং কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। নিঃসন্দেহে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ ইতিবাচক। কিন্তু জনগণ কেবল আশ্বাস শুনে ক্লান্ত। কারণ বাস্তবতা হলো, দেশে প্রায় প্রতি বছরই কোনো না কোনো অজুহাতে গ্যাস সংকট দেখা দেয়।

জ্বালানি বিভাগ আমদানিনির্ভর নীতিকে অতীত সরকারের দায় হিসেবে উল্লেখ করেছে। সত্যিই দীর্ঘদিন দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন অবহেলিত হওয়ায় আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় দায় নির্ধারণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলোÑ কার্যকর সমাধান। জনগণ জানতে চায়, একই সমস্যা বারবার কেন ঘটছে? একটি টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দিলেই পুরো গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ে? কোথায় বিকল্প পরিকল্পনা, কোথায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা?

আরও উদ্বেগের বিষয়, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। তিতাস বলছে তারা গ্যাস পাচ্ছে না, পেট্রোবাংলা বলছে সরবরাহ কমে গেছে। কিন্তু এই দায় চাপানোর সংস্কৃতি জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করে না। সংকটের সময়ে প্রয়োজন দ্রুত সিদ্ধান্ত, কার্যকর সমন্বয় এবং স্বচ্ছ তথ্যপ্রবাহ। মানুষ জানতে চায় বাস্তবে কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, কেবল আশাবাদের বক্তব্য নয়।

এই সংকটের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে দেশের উৎপাদন খাত। গ্যাসনির্ভর শিল্প, বিশেষ করে পোশাকশিল্প, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান ভিত্তি। সেখানে গ্যাসের চাপ কমে গেলে উৎপাদন ব্যাহত হয়, সময়মতো রপ্তানি সম্ভব হয় না, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও একটি দেশের অবকাঠামোগত সক্ষমতা ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেন। ঘন ঘন এমন সংকট বিনিয়োগের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সরকার ইতোমধ্যে নতুন গ্যাসকূপ খনন, অনশোর-অফশোর অনুসন্ধান, ভোলার গ্যাস মূল ভূখ-ে আনা, নতুন এফএসআরইউ স্থাপন এবং দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে সুফল মিলতে পারে। তবে পরিকল্পনার চেয়ে এখন বেশি প্রয়োজন বাস্তবায়নের গতি ও জবাবদিহি। কাগজে-কলমে প্রকল্প নয়, জনগণ দেখতে চায় মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি।

আমরা মনে করি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে একাধিক বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এরমধ্যে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। পাশাপাশি, এলএনজি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে বহুমুখী জ্বালানি উৎস গড়ে তুলতে হবে। সেইসঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি কার্যকর বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা (কনটিনজেন্সি প্ল্যান) থাকতে হবে।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন কেবল বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে নয়, বরং সেই অবকাঠামো কতটা নিরবচ্ছিন্নভাবে মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে পারে, তার ওপর নির্ভর করে। গ্যাসের মতো মৌলিক জ্বালানি সরবরাহে বারবার সংকট কোনোভাবেই স্বাভাবিক হতে পারে না।

সরকার সাময়িক মেরামতের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কেননা, জনগণ আশ্বাস নয়, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ এবং দুর্ভোগমুক্ত জীবন চায়। সেটিই সরকারের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!