× UCB Sticker Card
সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০২:৪৮ এএম

সম্পাদকীয়

নদী খননের নামে লুটপাট বন্ধ করুন

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০২:৪৮ এএম

নদী খননের নামে লুটপাট বন্ধ করুন

নদী বাংলাদেশের প্রাণ। কৃষি, নৌপরিবহন, পরিবেশ ও অর্থনীতির সঙ্গে এ দেশের নদীগুলোর অস্তিত্ব ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই নদীর নাব্য রক্ষায় সরকারি অর্থ ব্যয় কোনো বিলাসিতা নয়, এটি রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। কিন্তু যখন সেই দায়িত্ব পালনের নামে শত শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, অথচ নদীর নাব্য ফিরে আসে না, তখন প্রশ্ন ওঠে, খনন হয়েছে নদী, নাকি রাষ্ট্রের কোষাগার?

রোববার রূপালী বাংলাদেশের বিশেষ প্রতিবেদনে, নেত্রকোনার কংস ও ভোগাই নদী খনন প্রকল্পকে ঘিরে যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা শুধু একটি প্রকল্পের অনিয়ম নয়, এটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব মিলছে না, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ হয়নি, নদীর নাব্য ফেরেনি, অথচ বিল পরিশোধ হয়ে গেছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রাথমিক সত্যতার আলামত পাওয়ার দাবি করলেও বছরের পর বছর তদন্ত ঝুলে আছে।

এটি নিছক প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার অর্থ হলো, অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সময় পাচ্ছেন নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার। এর ফলে প্রমাণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি রাষ্ট্রীয় তদন্ত সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অবস্থান তখন দুর্বল বলে প্রতীয়মান হয়।

অভিযোগ আরও গুরুতর, যদি সত্যিই নদী খননের নামে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সরকারি প্রকল্পকে ব্যক্তিগত লাভের উৎসে পরিণত করে থাকে। জনগণের করের টাকায় একদিকে প্রকল্পের বিল নেওয়া, অন্যদিকে একই প্রকল্প থেকে বালু বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা হবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের জঘন্য উদাহরণ।

আরও উদ্বেগের বিষয়, অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আছেন, এমনকি পদোন্নতির আলোচনাতেও রয়েছেন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তিনি অপরাধী, এ কথা যেমন বলা যায় না, তেমনি গুরুতর দুর্নীতির অনুসন্ধান চলাকালে তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানোও সুশাসনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে তদন্তের নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতাÑ উভয়ই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে কীসের ভিত্তিতে? কাজের পরিমাপ কে করেছে? বিল অনুমোদন করেছেন কারা? তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা কীভাবে সন্তুষ্ট হলেন? সরকারি প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের প্রতিটি ধাপই তো নথিভুক্ত থাকে। তাহলে দায় নির্ধারণে এত সময় লাগছে কেন? যদি অনিয়মের প্রমাণ থাকে, তবে মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে না কেন? আর যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন হয়, তবে সেটিও স্পষ্টভাবে জনগণকে জানানো উচিত।

নদী খননের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ কেবল অর্থ অপচয়ের বিষয় নয়, এর প্রভাব পড়ে নৌপথ, কৃষি, পরিবেশ, বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর। ফলে এই অভিযোগের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তির সঙ্গেও জড়িত।

আমরা মনে করি, সরকারের উচিত দুদকের অনুসন্ধান দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এবং তদন্তকে সব ধরনের প্রভাবমুক্ত রাখা। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণের কাছে দিতে হবে। কারণ উন্নয়ন প্রকল্পের সফলতা কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে নদীর বুকে, মানুষের জীবনে এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতায় প্রতিফলিত হওয়াই প্রকৃত উন্নয়ন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!