মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের বাংগালা বাজার থেকে ধামশ্বর কালিবাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। টানা বর্ষণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘিওর ও দৌলতপুরÑ এই দুই উপজেলার হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সড়ক নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দৌলতপুর অংশে কলিয়া থেকে কাকনা, পুরান ধামশ্বর হয়ে নতুন ধামশ্বর বাজারের কালিবাড়ি পর্যন্ত সড়কটির কার্পেটিং কাজ প্রায় দুই বছর আগেই শেষ হয়েছে। তবে কালিবাড়ি থেকে ঘিওরের বাংগালা বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশ এখনো কাঁচা, ঝুঁকিপূর্ণ ও খাদের রূপ নিয়েছে। প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এই অংশের কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কাজের একপর্যায়ে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে সড়কের মাঝখানের প্রায় ২০ থেকে ২২ ফুট গভীর করে মাটি সরিয়ে নেওয়া হলেও দীর্ঘদিন তা সংস্কার করা হয়নি। সংবাদ প্রকাশের পর মাটি ভরাট করা হলেও কাজ বারবার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বর্ষা মৌসুমে সড়কটির মাটি আরও সরে গিয়ে চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক প্রবল বৃষ্টিতে পয়লা পূর্বপাড়া মসজিদের সামনেসহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে।
গত শনিবার স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘবে সড়কটির অস্থায়ী সংস্কারকাজে এগিয়ে আসেন আসন্ন পয়লা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন মাস্টার। তবে এলাকাবাসী জানান, এই সাময়িক সংস্কারে স্থায়ী সমাধান মিলছে না। একই প্রকল্পের দৌলতপুর অংশের কাজ শেষ হলেও ঘিওর অংশের প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক এভাবে অসমাপ্ত পড়ে থাকায় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা দ্রুত সড়কটির স্থায়ী নির্মাণকাজ শেষ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কাজটির দরপত্র হওয়ার পর নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যায়। এর ফলে ঠিকাদারেরা লোকসানে পড়ে কাজ থেকে সরে দাঁড়ান। এ কারণে আগের কাজ বাতিল করে নতুন দর নির্ধারণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নতুন দরপত্রের মাধ্যমে খুব দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন