বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সরকারি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। দায়িত্বে অবহেলার কারণে সরকারি ওষুধ নষ্ট হওয়ার এই ঘটনায় ওই সময় দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে সরকারি বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন।
গত শনিবার সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আকস্মিকভাবে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতালের একটি বাথরুমে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ দেখতে পেয়ে তিনি চরম বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঘটনাটিকে দায়িত্বে চরম অবহেলার গুরুতর উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মন্ত্রীর নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল হাসপাতালটি পরিদর্শন করে। সরেজমিনে ওষুধগুলো পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ ওষুধই মেয়াদোত্তীর্ণ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সরবরাহকৃত।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি জানান, বিভাগীয় পরিচালক নিজ হাতে ওষুধগুলো পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেছেন যে এগুলো ২০২৩-২৪ অর্থবছরের। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ওষুধগুলো রোগীদের মধ্যে বিতরণ করা উচিত ছিল, যা না করায় এগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল থেকে সেখানে ডা. শাহরিয়ার ফাত্তাহ, ডা. শর্মী রায়, ডা. শেখ নাদিরুজ্জামান আকাশ ও ডা. মুজাহিদুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি গত বছরের ১১ অক্টোবর যোগ দিয়েছেন এবং জানান যে তার মেয়াদকালে কোনো ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়নি।
খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ মোশাররফ হোসেন বলেন, উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলো পরীক্ষা করে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি। জেলা সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়। সরকারি ওষুধ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন তাদের চিহ্নিত করা হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণ হলে সরকারি বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন