বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর হতাশা কাটাতে জুয়ার টেবিলে বসতে দেখা গিয়েছিল নেইমারকে। তবে, মাঠে নামতেও খুব বেশি সময় নিলেন না। সান্তোসের হয়ে ব্রাজিলিয়ান সিরি ‘আ’তে শনিবার মাঠে নামলেন তিনি। নেমেই সবার দৃষ্টি কেড়ে নিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। সান্তোসের হয়ে করলেন জোড়া গোল, যার ফলে হার থেকে বাঁচল সান্তোস। যদিও একই সঙ্গে বিতর্কিত গোল উদযাপন এবং তৃতীয় হলুদ কার্ড দেখে পরের ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধও হয়েছেন। গতকাল রোববার ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে ব্রাজিলিয়ান লিগের দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে তলানির দুই দল সান্তোস ও শাপেকোয়েন্সের ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। সান্তোসের হয়ে ২টি গোলই করেন নেইমার।
মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে গোল করলেন নেইমার। এর আগে নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব-১৬’-এর শেষ মুহূর্তে তার পেনাল্টি গোল এলেও ব্রাজিলের বিদায় এড়াতে পারেননি। এবার সেই একই দৃশ্য দেখা গেল সান্তোসের জার্সিতে। শেষ দিকে তার পেনাল্টি গোলেই অন্তত ১ পয়েন্ট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে দলটি।
ক্লাব বিশ্বকাপের পর এটাই ছিল নেইমারের প্রথম ম্যাচ, যেখানে তিনি শুরু থেকেই একাদশে ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলিয়ান পোকার চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই তারকা।
সমালোচকদের জবাবও দিলেন নিজের মতো করে। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে বাররেয়ালের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে দারুণ ফিনিশে গোল করেন নেইমার। এরপর গোল উদযাপনে তাস বিলানোর ভঙ্গি করে নিজের পোকার বিতর্কেরই ইঙ্গিত দেন। তবে ম্যাচে নেইমারের সবকিছুই ইতিবাচক ছিল না। শাপেকোয়েন্সে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর পর দুই প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাগি¦ত-ায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখান। আগেই দুটি হলুদ কার্ড থাকায় এটি ছিল তার তৃতীয় হলুদ কার্ড। ফলে ব্রাজিলিয়ান লিগে সান্তোসের পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না নেইমার।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে শাপেকোয়েন্সে। ম্যাচের ৫০ মিনিটে মার্সিনিও সমতা ফেরান। এরপর ৬১ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে বলাসির নিচু ক্রসে নিজেদের ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াস আত্মঘাতী গোল করলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। চলতি মৌসুমে মাত্র একবার জেতা শাপেকোয়েন্সে তখন দ্বিতীয় জয়ের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মৌসুমের প্রথম পর্বেও সান্তোসকে ৪-২ গোলে হারিয়েছিল তারাই।
তবে ম্যাচের ৮৫ মিনিটে বদলে যায় দৃশ্যপট। কাবায়েরোকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সান্তোস। স্পট কিকে দাঁড়িয়ে ঠান্ডা মাথায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন নেইমার। গোল করার পর নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচের মতোই প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের উসকানির জবাব দেন তিনি। এরপর দ্রুত বল নিয়ে মাঝমাঠে চলে যান, কারণ তার লক্ষ্য ছিল জয়সূচক তৃতীয় গোল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ চালালেও আর গোল করতে পারেনি সান্তোস। ফলে ২-২ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। এই ড্রয়ে সান্তোসের পয়েন্ট হয়েছে ২২। আপাতত তারা ১৪তম স্থানে উঠে এসেছে। তবে অবনমন অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবধান এখনো খুবই কম। অন্যদিকে শাপেকোয়েন্সের সংগ্রহ মাত্র ১০ পয়েন্ট। তলানিতে থাকা দলটি ক্রমেই অবনমনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে শক্তিশালী সান্তোসের মাঠে এক পয়েন্ট তুলে নেওয়ায় কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে তারা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন