× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

আশরাফুল ইসলাম হাসিব

প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৭:০৭ এএম

প্রবাসে বাংলাদেশিদের সংগ্রাম

আশরাফুল ইসলাম হাসিব

প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৭:০৭ এএম

প্রবাসে বাংলাদেশিদের সংগ্রাম

আন্তর্জাতিক অভিবাসন বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রতি বছর লাখ লাখ বাংলাদেশি উন্নত কর্মসংস্থান, উচ্চ আয় এবং উন্নত জীবনযাত্রার আশায় বিদেশে পাড়ি জমান। তবে প্রবাস জীবনের শুরুটা সাধারণত সহজ নয়; ভাষাগত সমস্যা, আর্থিক ঋণ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং কর্মক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঙৎমধহরুধঃরড়হ ভড়ৎ গরমৎধঃরড়হ-এর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি অভিবাসী বসবাস বা কর্মরত রয়েছেন।

বাংলাদেশি অভিবাসনের প্রধান গন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকা। বিশেষভাবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইতালি এবং টহরঃবফ করহমফড়স বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।

অভিবাসন অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটালেও এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে নানা সামাজিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ। এই গবেষণায় প্রবাসে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সেই অভিজ্ঞতাগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি অভিবাসনের কারণ

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অভিবাসনের প্রধান কারণ অর্থনৈতিক। দেশের ভেতরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেকেই বিদেশে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।

ডড়ৎষফ ইধহশ-এর মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।  অভিবাসনের প্রধান কারণগুলো হলো-  উচ্চ আয়ের সুযোগ,  দেশের ভেতরে বেকারত্ব বা আংশিক কর্মসংস্থান, উন্নত জীবনযাত্রার আকাক্সক্ষা, বৈশ্বিক শ্রমবাজারে শ্রমিকের চাহিদা, সামাজিক নেটওয়ার্ক বা আত্মীয়স্বজনের প্রভাব। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পরিবারের একজন সদস্য বিদেশে যাওয়ার পর অন্য সদস্যরাও একই গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

প্রবাস জীবনের প্রাথমিক সংগ্রাম

বিদেশে যাওয়ার পর প্রথম যে সমস্যাটি অনেক বাংলাদেশি অভিবাসীকে মোকাবিলা করতে হয় তা হলো ভাষাগত বাধা। স্থানীয় ভাষা না জানার কারণে তারা অনেক সময় কাজের পরিবেশ বুঝতে বা অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমস্যায় পড়েন।

বিদেশে যাওয়ার জন্য অনেক সময় বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয়। অনেক অভিবাসী ঋণ নিয়ে বা জমি বিক্রি করে বিদেশে যান। ফলে প্রবাস জীবনের প্রথম কয়েক বছর তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে সেই ঋণ পরিশোধ করা।

কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসীরা নি¤œ মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশের মুখোমুখি হন। বিশেষ করে নির্মাণ, গৃহকর্ম বা নি¤œ দক্ষতার কাজে এই ধরনের সমস্যার সম্ভাবনা বেশি থাকে।  এই বিষয়ে শ্রমিক অধিকার রক্ষায় কাজ করছে ওহঃবৎহধঃরড়হধষ খধনড়ঁৎ ঙৎমধহরুধঃরড়হ।

নতুন দেশ, নতুন সংস্কৃতি এবং পরিবারের থেকে দূরে থাকার কারণে অনেক অভিবাসী মানসিক চাপ বা একাকিত্ব অনুভব করেন। প্রবাস জীবনের শুরুতে এই মানসিক চ্যালেঞ্জ বেশ প্রবল হতে পারে।

বাংলাদেশি অভিবাসীদের কর্মসংস্থান

বাংলাদেশি অভিবাসীরা সাধারণত নি¤œ ও মধ্য দক্ষতার বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত থাকেন। মধ্যপ্রাচ্যে; নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মী, ড্রাইভার, নিরাপত্তাকর্মী, পরিষেবা কর্মী।

ইউরোপ ও পশ্চিমা দেশে রেস্টুরেন্ট কর্মী, শেফ বা রান্না পেশা, ডেলিভারি ড্রাইভার, দোকান বা ব্যবসা, কেয়ার ও সাপোর্ট সেবা।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক অভিবাসী নতুন দক্ষতা অর্জন করেন এবং ভালো আয়ের চাকরি বা নিজস্ব ব্যবসা শুরু করেন।

অভিযোজন ও টিকে থাকার কৌশল

প্রবাস জীবনের শুরুতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হলেও ধীরে ধীরে অভিবাসীরা নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেন।

সামাজিক নেটওয়ার্ক

বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বন্ধুবান্ধব অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। স্থানীয় ভাষা শেখার মাধ্যমে অভিবাসীরা কর্মক্ষেত্রে উন্নতি করতে পারেন এবং সমাজে সহজে মিশে যেতে পারেন। অনেক অভিবাসী বিদেশে কাজ করার সময় নতুন দক্ষতা অর্জন করেন যেমনÑ  ইলেকট্রিক কাজ, নির্মাণ প্রযুক্তি, রান্না, ড্রাইভিং এই দক্ষতাগুলো তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতার মানসিক প্রভাব

প্রবাস জীবনের একটি বড় দিক হলো পরিবারের থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকা। অনেক অভিবাসী বছরের পর বছর স্ত্রী, সন্তান এবং বাবা-মায়ের থেকে দূরে থাকেন। তবে আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ভিডিও কল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইত্যাদি এই দূরত্ব কিছুটা কমিয়ে দেয়। তবুও পরিবারকে মিস করা অভিবাসী জীবনের একটি বাস্তবতা।

স্থায়ী বসবাসের সম্ভাবনা

স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বিভিন্ন দেশের নীতির ওপর নির্ভর করে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে শ্রমিকরা অস্থায়ী ভিসায় কাজ করেন এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে ইউরোপ বা পশ্চিমা দেশে দীর্ঘ সময় বৈধভাবে বসবাস করলে স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ টহরঃবফ করহমফড়স-এ সাধারণত পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করা যায়।

রাজনৈতিক আশ্রয় ও শরণার্থী আবেদন

কিছু বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে রাজনৈতিক বা সামাজিক কারণে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। এই প্রক্রিয়াটি জটিল এবং দীর্ঘ সময় নিতে পারে।

এ ধরনের শরণার্থী ও আশ্রয় আবেদন সংক্রান্ত বিষয়গুলো আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে টহরঃবফ ঘধঃরড়হং ঐরময ঈড়সসরংংরড়হবৎ ভড়ৎ জবভঁমববং।

প্রবাসে সামাজিক জীবন ও অবসর

অভিবাসীরা কাজের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনও গড়ে তোলেন। তাদের সাধারণ অবসর কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে; পর্যটন স্থানে ভ্রমণ, ধর্মীয় উৎসব উদযাপন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও সামাজিক আড্ডা। এগুলো তাদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

রেমিট্যান্স ও অর্থনৈতিক অবদান

বাংলাদেশি অভিবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তারা বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠান যা রেমিট্যান্স নামে পরিচিত।  ডড়ৎষফ ইধহশ-এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ রেমিট্যান্স গ্রহণকারী দেশ।  এই অর্থ সাধারণত ব্যবহৃত হয় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বাড়ি নির্মাণ, ব্যবসায় বিনিয়োগ। বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রবাস জীবন সংগ্রাম, ত্যাগ এবং সফলতার এক বাস্তব উদাহরণ। প্রথম দিকে ভাষাগত সমস্যা, আর্থিক চাপ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো চ্যালেঞ্জ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হন। তাদের পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবন নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভবিষ্যতে অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ন্যায্য কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসনের সুফল আরও বৃদ্ধি পাবে।

লেখক : যুক্তরাজ্য প্রবাসী

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!