× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রুহুল আমিন ভূঁইয়া

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০২:৪১ এএম

তারেক রহমান সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া নেতা

রুহুল আমিন ভূঁইয়া

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০২:৪১ এএম

তারেক রহমান সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া নেতা

সত্তর দশকের বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল। একের পর এক ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দিয়ে পেয়েছেন ‘মেগাস্টার’ খ্যাতি। নন্দিত এই নায়ককে এখন আর চলচ্চিত্রে দেখা যায় না। চলচ্চিত্রে নিয়মিত না থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আয়োজনে তাকে পাওয়া যায়। পাশাপাশি তিনি বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি বিতর্কিত অভিনয়শিল্পী হিরো আলমের একটি সিনেমায় নাম জড়িয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। বাবুল রেজা পরিচালিত ‘বউ জামাইয়ের লড়াই’ সিনেমা উজ্জ্বল ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত হয়েছে এবং সিনেমাটি চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড ছাড়পত্র দেয়নি বলে জানা গেছে।

তবে উজ্জ্বল বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি সিনেমাটি প্রযোজনা করেননি বলে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে নিশ্চিত করে বলেন, ‘বাবুল রেজা আমার সহকারী। আগে অনেক কাজ করত। আমাকে জানাল একটি সিনেমা করছে, সেটার জন্য সহযোগিতা দরকার। সেই জায়গা থেকে সহযোগিতা করেছি। সিনেমাটিতে কারা অভিনয় করেছেন এ নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইনি। জানার প্রয়োজনও মনে করিনি। কারণ, আমার সহকারীকে সহযোগিতা করেছি। আমি দেশের একজন নেতা। সহযোগিতা চাইলে করতে হবে। মূলত সহকারীকে সহযোগিতা করেছি। বাবুল রেজা কৃতজ্ঞতার জায়গা থেকে প্রযোজকের জায়গায় আমার নাম দিয়েছে, যা আমি জানতামও না। চলচ্চিত্রের যে অবস্থা ওদের পাশে যদি আমরা না থাকি তাহলে কে থাকবে? সার্টিফিকেশন বোর্ড সদস্যরা এখন যেটা ভালো মনে করে। তাদের সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই। এটা যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে সেরকম কিছু না। আমার মতো মানুষের এখন বিতর্কে জড়ানোর সুযোগ নেই। একটি মহল রং লাগিয়ে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে ব্যক্তি স্বার্থে। সবসময় চেষ্টা করছি মানুষের উপকার করতে। দলের নির্দেশ আছে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে। সেভাবেই চলছি।’

চলচ্চিত্রের দূরদশার কথা স্মরণ করে এই অভিনেতা বলেন, ‘বর্তমানে চলচ্চিত্রের বেহাল দশা। আগের মতো সিনেমা নেই। নতুন করে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে ভাবতে হবে। সবার সহযোগিতায় এই শিল্পকে কিভাবে বাঁচানো যায় সে কথা সবারই ভাবা দরকার। আশা করি, নতুন সরকার চলচ্চিত্রের দিকে দৃষ্টি দিবে। আমাদের সবাইকেও ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে কাজ করতে হবে।’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) বিতর্কিত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কথা উল্লেখ করে উজ্জ্বল বলেন, ‘যখন আমরা সরকারে ছিলাম না তখন বিএফডিসির বিতর্কিত এমডিকে নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। এখন আমাদের সরকার আছে। তিনি এ জায়গা নিয়ে নতুন করে ভাববেন। এমডি থাকায় চলচ্চিত্রের তো উন্নয়ন হয়নি। তিনি আসার পর চলচ্চিত্র যেখানে ছিল সেখানেই আছে। বরং পূর্বের চেয়ে আরও পিছিয়ে গেছে। তার ব্যাপারে তথ্যমন্ত্রীকে অবগত করা হবে।’

সিনেমার কথা জানিয়ে এই অভিনেতা বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম ঈদের জন্য দেড় ডজনের মতো সিনেমা মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে এটা খুবই ভালো। সিনেমা হচ্ছে কিন্তু এফডিসিতে কিছু হচ্ছে না। সবাই সমিতি নিয়ে ব্যস্ত। ফিল্মে যেসব সমিতির নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা সিনেমা নিয়ে ভাবছে না। পিকনিক, অ্যাওয়ার্ড এসব সমিতি কেন্দ্রিক আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত তারা। সিনেমা নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই। সিনেমার হারানোর গৌরব ফিরিয়ে আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

প্রযোজক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে লড়বেন বলে শোনা যাচ্ছে। এমন প্রশ্নের উত্তরে উজ্জ্বল বলেন, ‘এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেইনি। আমি জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বে জড়িত। আমি বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক। সরকার যেহেতু আমাদের তাই সমিতি নয়, পুরো সেক্টরের নেতৃত্ব দেব। দলীয় অবস্থান আছে এবং ইন্ডাস্ট্রি থেকেও পুরো দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব আছে। যারা বিভিন্ন সমিতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের সঙ্গে বসে যেভাবে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় সেভাবে নেব। এই মূহূর্তে সমিতি নেতা নিয়ে ভাবছি না। কারণ, আমি জাতীয় নেতা।’

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা চিত্রনায়িকা সিমলাকে জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের প্রচারণায় দেখা গেছে। এ নিয়ে বেশ চর্চা হয়েছিল। এ নিয়ে উজ্জ্বল বলেন, ‘শিল্পীদের রাজনীতি করতে কোন বাধা নেই। কারণ, প্রতিটি মানুষের রাজনীতি করার অধিকার আছে। বিএনপি মানুষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার করার জন্যই সংগ্রাম করে আজ সরকারে। সে ক্ষেত্রে ভোটের প্রচারণায় কে, কি করল সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। দলীয় রাজনীতি করতে হলে যেখান থেকে শুরু করা দরকার সেই প্রক্রিয়া থেকেই করতে হবে। মৌসুমি পাখির মতো এসে কোন কিছু অর্জন করা যাবে না। তাদের জাতীয় ভাবেও অবস্থান থাকবে না। রাজনীতি কঠিন জায়গা। স্বৈরাচারী আমলে যে সংস্কৃতি ছিল তা এখন আর হবে না। কোন রাজনৈতিক দল শিল্প জন্ম দিতে পারে না। শিল্পীকে নিজেকে নিজে তৈরি করতে হয়। দর্শকদের কাছে শিল্পীকেই গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে।’

৫ আগস্টের পর এফডিসিতে নানা বিভাবজন দেখছি। এ বিষয়ে অবগত? উত্তরে তিনি বলেন, ‘আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে দুই ভাগ। কিন্তু দুই ভাগ নয়। এফডিসিতে সুদীর্ঘ কিছু ছিল না। অতীতে যারা করতেন তারা হাতেগোনা কয়েকজন। তারা সবাই ব্যক্তি কেন্দ্রিক রাজনীতি করেছেন। তাদের ইমেজ দিয়ে করেছেন। এখন যারা বিএনপি দাবি করছেন, তারা ব্যক্তি স্বার্থে সুবিধা নিচ্ছে, যখন যে সরকার থাকে। সবাই সরকারি দলের সুবিধা নিচ্ছে। এবার সে সুযোগ হবে না। কারণ, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া একজন নেতা। তিনি দীর্ঘদিন যাবত তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যন্ত জানেন। হঠাৎ করে হাইব্রিড বিএনপি কিংবা সরকারি দল হয়ে যাওয়ার পর বিএনপি এরা মনে হয় না সুবিধা ভোগ করতে পারবে।’

বর্তমান চলচ্চিত্রের দৈন্যতা তাকে ক্ষতবিক্ষত করে উল্লেখ করে এই অভিনেতা বলেন, ‘যারা চলচ্চিত্র বান্ধব তাদের নিয়ে আমরা কাজ করব। বর্তমান সরকার তাদের সহযোগিতা করবে। তরুণদের প্রাধান্য সেখানে থাকবে। দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে চলচ্চিত্রের মধ্যে আর সুবিধা ভোগ করার সুযোগ নেই। চলচ্চিত্র বান্ধব এবং মেধাবী প্রবীণ ও নবীনদের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!