বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় সাইদুল ইসলাম সজিব (২৫) নামের এক কলেজছাত্র প্রাণ হারিয়েছেন। বরিশাল সরকারি কলেজের মাস্টার্সের এই শিক্ষার্থীর ওপর গত শনিবার পড়শি মিলন খানের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে যায়। তিন দিন চিকিৎসা গ্রহণ শেষে সোমবার রাতে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এ ছাড়া ওই হামলায় কলেজছাত্রের বাবা-মাসহ আরও চারজন আহত হলে তাদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে প্রতিপক্ষ মিলন খানের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন দেশি অস্ত্রধারী সন্ত্রাস লোচনাবাদ গ্রামে প্রবেশ করেন এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে কলেজছাত্রের বাবা আবুল হোসেনের ভূমিতে দোকানঘর উত্তোলনের চেষ্টা করেন। তখন দুই গ্রুপের মধ্যে বাগবিত-ার একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে সাইদুল ইসলাম সজিবকে গুরুতর আহত করাসহ পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
পুলিশ জানায়, আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাইদুলকে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ও পরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় শেবাচিম থেকে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার গভীর রাতে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
মিলনের এই সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় নিহতের বাবা আবুল হোসেন, স্ত্রী পিয়ারা বেগম, স্বজন হাসান আলী খান এবং আয়শা বেগম আহত হন। এ ঘটনায় আবুল হোসেন খান বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় ৮ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলাটির দুজন আসামিকে যখন মঙ্গলবার সকালে বরিশাল শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন কলেজছাত্রের মরদেহের ময়নাতদন্ত চলছিল।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার কে এম সোহেল রানা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, জমি নিয়ে বিরোধে হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকেই দুটি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে নিহতের বাবা একটি মামলা করেন। মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেবে। এই মামলার দুজন অভিযুক্তকে মঙ্গলবার বরিশাল শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

