হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে সদর উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত খোয়াই নদী এখন অবৈধ বালুখেকোদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন এবং এক্সকাভেটর দিয়ে পাড়ের মাটি কাটার মহোৎসবে মেতেছে একটি প্রভাবশালী চক্র। ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের চরম ঝুঁকিতে দিন কাটছে নদী পাড়ের হাজার হাজার মানুষের।
সদর উপজেলার কামড়াপুর, চানপুর, গোবিন্দপুর, রামপুর, তেতৈয়া, মশাজান এবং শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলিমনগর, আলাপুর ও লস্করপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শতাধিক স্পটে দিন-রাত চলছে ড্রেজার মেশিন। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করায় এরই মধ্যে বেশ কিছু স্থানে তীরে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এদিকে বালু পরিবহনে ব্যবহৃত শত শত অবৈধ ট্রাক্টরের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলোর পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, ২০২৫ সালের আগস্টে ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে শায়েস্তাগঞ্জের আলাপুর ও লেঞ্জাপাড়া পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় বালুর বস্তা ফেলে কোনোমতে রক্ষা পাওয়া গেলেও সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজো জনমনে টাটকা।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক আহমেদ বলেন, বালু ও চর কেটে নেওয়ায় নদী এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। সামনে বর্ষায় আমরা ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে আছি।
আব্দুর রউফ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বালুখেকোরা প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জুল সোহেল বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বালু ও মাটি তোলায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এটি অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে সামনে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসক জিএম সরফরাজ বলেন, অবৈধ কর্মকা- করে কেউ পার পাবে না। নদীর ক্ষতি করে যারা বালু উত্তোলন করছে, তাদের খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন