মাদারীপুর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার মেগা প্রকল্পটি বর্তমানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অর্থসংকট ও দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজালে বন্দি হয়ে আছে। বিশেষ করে মহাসড়কের মাদারীপুর অংশের ৪৭ কিলোমিটার এলাকা এখন কার্যত এক ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটে যানবাহনের চাপ বহুগুণ বাড়লেও সড়ক প্রশস্ত না হওয়ায় প্রতিদিনই হাজারো যাত্রী প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ভাঙ্গা-মাদারীপুর-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক সম্প্রসারণের প্রস্তাব গ্রহণ এবং ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। ২০১৯ সালে যেখানে এই সড়কে প্রতিদিন ১৯ হাজার যানবাহন চলত, বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অথচ মাদারীপুর অংশে সড়কের প্রস্থ মাত্র ২৪ ফুট, যেখানে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর ও বরিশাল অংশে সড়ক ৩২ ফুট প্রশস্ত। এই সরু রাস্তায় বাস-ট্রাকের পাশাপাশি ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও নসিমনের মতো ধীরগতির যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, গত ছয় মাসে এই এলাকায় অন্তত ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন।
প্রকল্পের স্থবিরতার বিষয়ে সড়ক বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কয়েক হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে সরকার এককভাবে অর্থায়ন করতে পারছে না। ফলে বিদেশি দাতা সংস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দাতা সংস্থা এগিয়ে আসেনি। অন্যদিকে, সাময়িকভাবে সড়কটি ২৪ ফুট থেকে ৩২ ফুটে উন্নীত করার কাজ চললেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় তাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও ২০২৩ সালে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ২৫৮ কোটি টাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে, তবে বাস্তবে এর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, মাদারীপুর অংশটি অত্যন্ত সরু এবং রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত মাটি না থাকায় গাড়ি চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ট্রাকচালক আমির হোসেন জানান, সড়কে আলাদা লেন না থাকায় ধীরগতির যানবাহনের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হয়। মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ অবিলম্বে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন।
মাদারীপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্সি মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে টেকেরহাট থেকে ৬ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে বাকি অংশও করা হবে।’ তবে দীর্ঘ প্রতিক্ষীত ৬ লেন প্রকল্প কবে নাগাদ শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেননি।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) জুয়েল আহমেদ বলেন, ‘সড়ক সম্প্রসারণে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে দুর্ঘটনা কমবে।’

