সাতক্ষীরার ভোমরার লক্ষ্মীদাড়ি গ্রাম থেকে তাসলিমা খাতুন নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে তার স্বামী সাদ্দাম হোসেন পলাতক রয়েছেন। গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীদাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাদ্দাম হোসেন তার নানার বাড়িতে বসবাস করতেন। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। নিহত তাসলিমা খাতুন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সাদ্দাম রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। সম্প্রতি সংসারে অভাব-অনটন দেখা দিলে তাসলিমা বাবার বাড়ি থেকে একটি ছাগল এনে পালন করছিলেন। পরে স্ত্রীকে না জানিয়ে সেই ছাগল বিক্রি করে দেন সাদ্দাম। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, একপর্যায়ে সাদ্দাম স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে চলে যেতে বলেন। তখন তাসলিমা ঘরে থাকা সেলাই মেশিন সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার কথা জানালে স্বামী বাধা দেন। নিহতের শাশুড়ি জানান, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে সন্দেহ করতেন। এ কারণে বাড়িতে তিনটি সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করেছিলেন। সংসারের অভাব-অনটন ও পারিবারিক কলহের জেরে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো।
স্বজনদের দাবি, ঘটনার রাতে ছেলে ও মেয়েকে পাশের একটি ঘরে আটকে রেখে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মারামারি হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের মেঝেতে তাসলিমার গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে রাতেই সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্তের স্বার্থে ঘরে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ঘরটি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন