× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ০৬:৩৬ এএম

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বোবা কান্না

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ০৬:৩৬ এএম

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বোবা কান্না

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণনে ব্যস্ততা থাকলেও বাজারে চামড়ার দরপতনে হতাশ ব্যবসায়ীরা। সরকার নির্ধারিত মূল্য ঘোষণা করা হলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৌসুমি সংগ্রাহক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যকর তদারকির অভাবে চামড়া খাতের দীর্ঘদিনের সংকট আরও গভীর হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়ন, ট্যানারিগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ অর্থায়নের ব্যবস্থা না হলে দেশের সম্ভাবনাময় এ খাত আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঈদুল আজহার পর রাজশাহী মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চামড়া সংগ্রহ, লবণজাতকরণ ও গুদামজাত করার কাজ চলছে পুরোদমে। তবে ব্যবসায়ীদের মুখে স্বস্তির বদলে দেখা দিয়েছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা।

ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক বছর আগেও কোরবানির মৌসুমে চামড়া ব্যবসা ছিল লাভজনক। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে চামড়ার দাম কমতে থাকায় অনেকেই এ ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এবারও সরকার মূল্য নির্ধারণ করলেও সেই দামে চামড়া বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কোথাও কোথাও এর চেয়েও কম দামে চামড়া বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অথচ চার-পাঁচ বছর আগেও একই ধরনের একটি গরুর চামড়া এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হতো। অন্যদিকে ছাগলের চামড়ার বাজার ছিল প্রায় ক্রেতাশূন্য।

চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, চামড়া সংগ্রহের পর তা সংরক্ষণে লবণ, শ্রমিক, পরিবহন ও গুদামজাতকরণে উল্লেখযোগ্য ব্যয় হয়। কিন্তু বিক্রির সময় কাক্সিক্ষত মূল্য না পাওয়ায় বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত গরুর চামড়ার মূল্য প্রতি বর্গফুট ৫২ থেকে ৫৬ টাকা এবং খাসির চামড়ার মূল্য ২০ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, মাঠ পর্যায়ে এ মূল্য কার্যকর করার মতো তদারকি না থাকায় ঘোষিত দাম বাস্তবে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। রাজশাহী মহানগরীর রেলগেট এলাকায় চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের কার্যালয়ের সামনে কথা হয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তারা জানান, বড় ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। অনেক সময় বাধ্য হয়ে কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে।

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী টিটু ইসলাম বলেন, ‘চামড়া কিনে সংরক্ষণ করতে অনেক খরচ হচ্ছে। লবণ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু বিক্রির সময় সেই অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়ন না হলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’ আরেক ব্যবসায়ী আসাদুল আলী বলেন, ‘আগে ঈদের সময় চামড়া ব্যবসা করে ভালো লাভ হতো। এখন পরিস্থিতি উল্টো। লোকসানের ভয়ে অনেকেই চামড়া কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।’

রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, ‘এবার চামড়ার বাজার অনেক দুর্বল। গুণগত মান অনুযায়ী ২০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে চামড়া বিক্রি হয়েছে। এখনো অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীর কাছে চামড়া রয়েছে। মোকামে সব চামড়া আসতে আরও ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে। তখন বাজারের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চামড়া ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হলে সরকার নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ট্যানারি মালিক, আড়তদার ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।’ এদিকে ঈদের সময় সীমান্তপথে চামড়া পাচারের আশঙ্কা থাকলেও প্রশাসন শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগেই চামড়া পাচার রোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত রাজশাহীতে চামড়া পাচারের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসন ও বিজিবি এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি করছে।’

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!