রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বরের আমের হাট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এ সময় তিনি স্থানীয় বিভিন্ন জাতের আমের স্বাদ গ্রহণ করেন এবং রাজশাহীর আমের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর আম হাটে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে তিনি বিভিন্ন আমের আড়ত ঘুরে দেখেন এবং আম ব্যবসায়ী ও চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তার সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলান, পলিটিক্যাল অফিসার চার্লস বেসনার্ডসহ দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হাট পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রদূত রাজশাহীর বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে খোঁজ নেন। তিনি জনপ্রিয় কয়েকটি জাতের আমের স্বাদ গ্রহণ করেন এবং আম উৎপাদন, সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় আম ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রদূতকে রাজশাহীর আমের উৎপাদন, বাজার ব্যবস্থা, রপ্তানির সম্ভাবনা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবহিত করেন। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিনিধিদের এমন সফর রাজশাহীর আমকে বিশ্ববাজারে আরও পরিচিত করতে ভূমিকা রাখবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে এটি তার প্রথম রাজশাহী সফর। আমের মৌসুমে রাজশাহীতে এসে সরাসরি আমের স্বাদ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। কোনো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা নেওয়া সবসময়ই বিশেষ একটি বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আম একটি জনপ্রিয় ফল। তবে সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হিমায়িত আম পাওয়া যায়। রাজশাহীর মতো তাজা ও বিভিন্ন স্বাদের আম যুক্তরাষ্ট্রে সহজে পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশ থেকে আম রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে আধুনিক কোল্ড চেইন বা শীতল সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, উন্নত সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের আম দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে এবং রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

