ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নোয়াখালীর এক যুবককে অপহরণ, পাশবিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার মো. ইমাম হোসেন (৩৮), কালীগঞ্জের মো. ইমরান হোসেন (৩১), মো. তারেক খন্দকার (১৯) এবং মো. মাসুদুজ্জামান দুলাল (৪০)।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী ফরহাদুল ইসলাম ঢাকার বিমানবন্দর এলাকায় একটি চায়ের দোকানে কাজ করতেন। সেখানে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে চাটখিলের ইমাম হোসেন তাকে অধিক বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জে ডেকে আনেন। গত ১৬ জুন রাতে ফরহাদুল কালীগঞ্জের দেওপাড়া এলাকায় পৌঁছালে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করা হয়। পরে একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে অপহরণকারীরা ফরহাদুলের ওপর চালায় অমানবিক নির্যাতন। তাকে চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও স্টিলের পাইপ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার দুই হাতে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা ও পায়ে কোপ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা অপহরণকারীদের বিকাশ নম্বরে তিন দফায় ১৫ হাজার টাকা পাঠালেও মুক্তি মেলেনি। গত বৃহস্পতিবার ভোরে কালীগঞ্জ থানার জামালপুর এলাকায় টহলরত পুলিশ একটি সন্দেহজনক অটোরিকশা তল্লাশি করে ফরহাদুলকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের তথ্যে আরও একজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকালে উদ্ধার করা হয়েছে মুক্তিপণের অবশিষ্ট ৫ হাজার টাকা ও ভুক্তভোগীর দুটি মোবাইল ফোন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মাসুদ রানা শামীম জানান, আসামিরা অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় দ-বিধির ৩৬৫, ৩৮৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

