তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভুল্ল্যারহাটে তিস্তা নদীর তীরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তিস্তা পাড়ের হাজারো মানুষ নদীর পানিতে নেমে প্রতিবাদ জানান এবং সরকারের কাছে দ্রুত প্রকল্পটির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও বাজেট বরাদ্দের দাবি তোলেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহাবুবুল আলম সালেহী সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনার নামে সরকার বর্তমানে লোক দেখানো কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রকল্পের কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা বাজেট নেই। সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। আমি বলতে চাই- আন্দোলন হয় তিস্তায়, আর বাজেট চলে যায় পদ্মায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই প্রকল্পের কোনো রাজনৈতিক কৃতিত্ব নিতে চাই না। সরকার নিজেই কৃতিত্ব গ্রহণ করুক, কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করুক। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বর্তমানে অব্যবহৃত অর্থ পড়ে রয়েছে, সেখান থেকে বরাদ্দ দিয়ে হলেও তিস্তাপাড়ের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।’
কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত অনেক ব্যক্তি বর্তমানে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন। অথচ চলতি বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য কোনো সুস্পষ্ট বরাদ্দ নেই, যা এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি করেছে। রংপুর অঞ্চল বছরের পর বছর ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। অবিলম্বে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করলে তিস্তাপাড়ের মানুষ বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।’
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন- জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহের, ঢাকা মহানগর মজলিসে শূরার সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম রাজুসহ জামায়াতের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা অবিলম্বে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, তিস্তা পাড়ের কয়েক লাখ মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। নতুবা বৃহত্তর গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের টনক নড়াতে তিস্তাপাড়ের মানুষ রাজপথে নেমে আসবে।

