সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে সম্মানহানির অপমানে আত্মহত্যা করেছেন তাসফিয়া ফাতেমা মাহি (১৭) নামে এক কলেজছাত্রী। গত সোমবার সকালে যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের শ্রীপদ্দি গ্রামে নিজ ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মাহি যশোর সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ওই গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে। ঘটনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী ও সাবেক প্রেমিক ওমর ফারুক ওরফে সাহেবকে (৩৫) দায়ী করা হয়েছে।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী ওমর ফারুকের সঙ্গে মাহির আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই বছর আগে তারা একবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়েও গিয়েছিলেন, তবে পরিবারের হস্তক্ষেপে মাহি ফিরে আসেন। এরপর তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। গত কয়েক মাস ধরে সাহেব আবারও মাহিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় সাহেব ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে ফটোশপে কারসাজি করে মাহির অশ্লীল ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় সে।
মাহির দুলাভাই বজলুর রহমান জানান, সোমবার মাহির গণিত পরীক্ষা ছিল। কিন্তু বখাটে ওমর ফারুকের অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্মানহানির শিকার হয়ে মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তিনি দ্রুত সাহেবকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, মাহিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার গলায় ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার কারণেই ভুক্তভোগী আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন