মানিকগঞ্জের ঘিওরে প্রেমঘটিত টানাপড়েনের জেরে সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক কলেজছাত্রী। গত সোমবার দুপুরে ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত পেঁচারকান্দা সেতুতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের তৎপরতায় ওই তরুণী প্রাণে বেঁচে গেলেও বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ওই তরুণী মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। অভিযুক্ত প্রেমিক একই ইউনিয়নের সাইংজুরী গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ওই যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলে অভিযুক্ত প্রেমিক তা প্রত্যাখ্যান করেন। বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পরও যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় চরম মানসিক চাপে ও অভিমানে ওই তরুণী একটি চিরকুট লিখে সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ধলেশ্বরী নদীতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তরুণীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার সঙ্গে ঘটা প্রতারণার বিষয়টি খোলাসা করেন।
তরুণীর বাবা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পর্কে তাদের দূরসম্পর্কের ভাই। পারিবারিকভাবে বিয়ের কথা বললেও তিনি রাজি হননি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরিবারের সম্মান ও মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে তিনি ঘিওর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে ঘিওর থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, তরুণীর নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন