টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে থাইল্যান্ডের হুতি জাতের লংগান চাষে সফলতা অর্জন করেছে ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার। এতে এলাকায় নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও আধুনিক ফলচাষ সম্প্রসারণের আশা তৈরি হয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে বান্দরবানের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টার থেকে আনা চারটি গাছে বর্তমানে থোকায় থোকায় ফল ধরেছে। বাদামি খোসা ও ছোট আকারের এই ফল দেখতে লিচুর মতো হলেও স্বাদে কিছুটা ভিন্ন। খোসা ছাড়ালে ভেতরের অংশ চোখের মতো দেখতে হওয়ায় চীনে একে ‘ড্রাগনস আই’ নামে ডাকা হয়।
জানা যায়, লংগানের উৎপত্তি চীন, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও ভারতের কিছু অঞ্চলে। এটি লিচু পরিবারের একটি ফল। ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. রাসেল পারভেজ (তমাল) জানান, গাছ রোপণের দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ফল ধরা শুরু হয় এবং একবার ফলন শুরু হলে নিয়মিত উৎপাদন পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ডালের মাথায় থোকায় থোকায় ফল ধরে। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ খুবই কম হওয়ায় কীটনাশক ছাড়াই চাষ সম্ভব। লিচুর মতো ঝরে না পড়ে বরং গাছে দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করে।
বর্তমানে বিদেশ থেকে আমদানি করা লংগান দেশের বাজারে প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ১,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লিচু মৌসুম শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস পর, অর্থাৎ জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এ ফল বাজারে পাওয়া যায়। ফলে লিচুর বিকল্প হিসেবে এটি জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা মো. এনামুল কবির জানান, গুটি কলমের মাধ্যমে লংগানের বংশবিস্তার করা হয়। ইতোমধ্যে চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাগান করতে চাইলে ৮ থেকে ১০ ফুট দূরত্বে চারা রোপণ করতে হয়। অন্যদিকে উদ্যানতত্ত্ববিদরা বলছেন, লংগান ফ্রুকটোজসমৃদ্ধ হওয়ায় এর মিষ্টতা প্রাকৃতিক এবং তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ। সংরক্ষণক্ষমতা বেশি হওয়ায় এটি রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি করছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যাপকভাবে চারা সরবরাহ সম্ভব হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে লংগান চাষ বিস্তৃত হবে। এতে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং বেকারত্ব হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে।

