ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

মানিলন্ডারিং মামলায় কারাগারে চাকরিচ্যুত পুলিশ কর্মকর্তা দম্পতি

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ০৬:২৪ এএম

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং মামলায় আত্মসমর্পণকারী চাকরিচ্যুত পুলিশ কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী ফারহানা ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোরের বিশেষ দায়রা জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এস এম নূরুল ইসলাম জামিন আবেদন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। দম্পতির বাড়ি যশোরের চৌগাছা উপজেলার জামতলা গ্রামে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, জসিম উদ্দিন ২০০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদে পদোন্নতি পান। চাকরি থাকাকালীন দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ২০১৮ সালের ১৮ মে তাকে পুলিশ বিভাগ থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে আসে। ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদক জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণ তলব করে নোটিস দেন।

দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, জসিম উদ্দিনের নামে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ২৩৩ টাকা এবং তার স্ত্রী ফারহানা ইসলামের নামে ১ কোটি ৩১ লাখ ১ হাজার ৭৯০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। দম্পতির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ২৩ টাকা। এই বিপুল সম্পদের বিপরীতে মাত্র ৬ লাখ টাকা দোকান ভাড়ার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়। ফলে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৩ টাকার সম্পদের কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি তারা।

এই অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, যশোরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২১ মার্চ জসিম দম্পতিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে তাদের পলাতক দেখানো হয়েছিল। পরবর্তীতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর গতকাল বৃহস্পতিবার তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক এস এম নূরুল ইসলাম তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।