এইচএসসি পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা এবং নকলের সুযোগ না পাওয়ায় ভোলার চরফ্যাশন ফাতেমা মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে নজিরবিহীন হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে একদল উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী। এই তা-বের ঘটনায় পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও কলেজের অধ্যক্ষ বাদী হয়ে চরফ্যাশন থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। গতকাল রোববার দুপুরে চরফ্যাশন থানা পুলিশের ওসি মো. মাহামুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, গত শনিবার রাতে ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. মহিউদ্দিন বাদী হয়ে চরফ্যাশন থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে, শনিবার দুপুর দেড়টা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চরফ্যাশন উপজেলা শহরের ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে এই তা-ব চালানো হয়।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন শিক্ষার্থী চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। শনিবার সকালে তাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা যথারীতি শুরু হওয়ার পর কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে এমসিকিউ প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষা চলার একপর্যায়ে কেন্দ্রটির ৩০৪ নম্বর কক্ষের কিছু পরীক্ষার্থী অভিযোগ তোলেন যে, পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন তাদের কমন পড়েনি।
প্রশ্ন কমন না পড়ার অজুহাতে শিক্ষার্থীরা অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নকল করার সুযোগ দাবি করেন। কিন্তু ওই কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষকরা নকলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেন এবং কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। তারা কক্ষের ভেতরেই দায়িত্বরত শিক্ষকদের সঙ্গে নানান অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং বাগবিত-া শুরু করেন।
পরীক্ষা শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই একদল শিক্ষার্থী সংঘবদ্ধ হয়ে পুনরায় কলেজের প্রধান ফটকে জড়ো হয়। তারা জোরপূর্বক কলেজের পকেট গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে নারকীয় তা-ব চালায়। হামলাকারীরা শুধু ভাঙচুর করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা সংরক্ষিত পরীক্ষার খাতাগুলোও ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণের দায়িত্বে থাকা ৭ জন শিক্ষক এবং কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে চরফ্যাশন থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাধ্য হয়ে ২ রাউন্ড টিয়ারশেল (কাঁদানে গ্যাস) নিক্ষেপ করেন। পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপের পর হামলাকারী শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসে।
চরফ্যাশন থানার ওসি মো. মাহামুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া জানান, ‘এ ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন