পাবনার ভাঙ্গুড়ায় দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে হেঁটে খবরের কাগজ বিক্রি করে চলেছেন শ্রী স্বপন চন্দ্র দাস (৫১)। কোনো বাইসাইকেল বা যানবাহন ছাড়াই প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে উপজেলার অলিতে-গলিতে পত্রিকা পৌঁছে দেন তিনি। এলাকার পাঠক মহলে তিনি পরিচিত ‘স্বপন দাদা’ হিসেবে। তার বাড়ি ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের ভাঙ্গুড়া বাজার এলাকায়।
সাদাসিধা ও সদা হাস্যোজ্জ্বল স্বপনের পরিবার অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা ও দারিদ্র্যতায় জর্জরিত। রোদ-বৃষ্টি কিংবা ঝড়ঝাপটাÑ প্রকৃতির রূপ যেমনই হোক না কেন, নিজের চরম দুর্দিনেও কখনো পত্রিকা বিলি বন্ধ রাখেননি তিনি। কাজের প্রতি তার এই গভীর নিষ্ঠা ও একাগ্রতা মুগ্ধ করে গ্রাহকদেরও।
প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে তার এই পথচলা। স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, দোকানপাট ও বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত খবরের কাগজ পৌঁছে দেন তিনি। সময়মতো পত্রিকা সরবরাহ ও ভালো আচরণের কারণে গ্রাহকদের কাছে তিনি এক পরম আস্থার নাম।
নিজের পেশা ও জীবন সংগ্রাম নিয়ে শ্রী স্বপন চন্দ্র দাস বলেন, ‘এ পেশাটি একটি সেবামূলক কাজ। ইন্টারনেটের যুগে ছাপা সংবাদপত্রের বিক্রি অনেক কমেছে। অল্প আয়ের এই পেশায় টিকে থাকা কঠিন হওয়ায় নতুন কেউ আসতে চায় না। তবে পেশাটির প্রতি ভালোবাসা জন্মে গেছে, তাই আর ছাড়তে পারছি না।’ জীবনের বাকি সময়টুকু তিনি এ পেশার সঙ্গেই কাটিয়ে দিতে চান।
উপজেলার একমাত্র সংবাদপত্র এজেন্ট শ্রী দুলাল কুমার দাস জানান, স্বপন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। পত্রিকার কোনো ছুটির দিন বাদে কোনো দিনই তিনি পাঠকের হাতে পত্রিকা পৌঁছাতে মিস করেন না।
চলনবিল সাহিত্য সংসদের সভাপতি ও কবি নুরুজ্জামান সবুজ মাস্টার বলেন, বয়স বাড়লেও স্বপন হার মানেননি। রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে ঠিকই পাঠকের হাতে কাগজ পৌঁছে দিচ্ছেন। অল্প আয়ের এই পেশাকে কতটা ভালোবাসলে যুগের পর যুগ এমন নিরলস সেবা দেওয়া যায়, স্বপন তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন