জনবহুল জেলা নীলফামারীতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কার্যালয়টি চলছে মাত্র দুজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে। বছরের পর বছর ধরে প্রায় ২১ লাখ মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন সহকারী পরিচালক ও অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার। তাদের ওপরই নির্ভর করছে বাজার তদারকি, ভোক্তার অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম। ফলে জেলায় নিয়মিত নজরদারি ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জনবল সংকটে সেবা দিতে রীতিমত হিমসিম খাচ্ছেন তারা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১ হাজার ৫৪৬ দশমিক ৫৯ বর্গকিলোমিটারের এ জেলার জনসংখ্যা ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী ২০ লাখ ৯২ হাজার ৫৬৮ জন। জেলা সদর ছাড়াও সৈয়দপুর, ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ এ ছয়টি উপজেলায় প্রতিদিন লাখো মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণ করেন। কিন্তু এ বিশাল জনগোষ্ঠীর ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে যথাযথ সেবা গ্রহণে বঞ্চিত এলাকার সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে সহকারী পরিচালককে মাঠপর্যায়ের অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, বাজার তদারকি, আদালত-সংক্রান্ত কার্যক্রম, সচেতনতামূলক সভা-সেমিনার ও প্রশাসনিক দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে একজন অফিস সহকারীকেই অফিস ব্যবস্থাপনা, নথিপত্র সংরক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত কাজসহ নানা দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, মূল্যতালিকা প্রদর্শনে অনিয়ম, ওজনে কারচুপি, অতিরিক্ত দাম আদায় এবং বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের মতো অভিযোগ প্রতিনিয়ত উঠছে। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ অভিযান জরুরি হলেও জনবল সংকটের কারণে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। সৈয়দপুর শহরের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, জনবল বৃদ্ধি হলে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান হলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। শহরসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো দরকার।
সাংবাদিক মারুফ হোসেন লিওন বলেন, জনবল সংকট থাকায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি ভেজাল বিরোধী অভিযান চালাতে পারছেন না। সৈয়দপুরে তৈরি শিশু খাদ্য ও ঢাকার চটকদার মোড়ক ভেজাল শিশু খাদ্য সৈয়দপুরের কাড়ি হাটিতে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে কিন্তু জনবল না থাকায় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে শিশু খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
এ বিষয় সহকারী পরিচালক শামসুল আলম বলেন, বর্তমানে মাত্র দুজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে জেলার ৬ উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছি। জনবল বৃদ্ধি পেলে বাজার তদারকি আরও জোরদার ও ভোক্তাদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন