স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও শেরপুরের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা নকলায় চালু হয়নি কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। আইনি জটিলতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতায় প্রায় দুই দশক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে নবনির্মিত ভবনটি। ফলে অগ্নিকা-ের মতো মারাত্মক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে ছাই হচ্ছে এবং নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তিন লক্ষাধিক মানুষের বসবাস রয়েছে এই জনপদে, অথচ কোনো ফায়ার স্টেশন না থাকায় ছোট-বড় যেকোনো অগ্নিকা-ে চরম বিপাকে পড়ছেন উপজেলাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলাগুলোতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ২০০৬ সালে নকলায় একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় ৩৫ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৪ টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে শেরপুর আদালতে মামলা করেন জমির মূল মালিক। এই আইনি জটিলতার কারণে তখন থেকেই ফায়ার স্টেশনের নির্মাণকাজ পুরোপুরি থমকে যায়।
এদিকে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে লাখ লাখ টাকার সরকারি এই অবকাঠামোটি অযতœ, অবহেলা ও তদারকির অভাবে ধ্বংসের মুখে পড়ে আছে। বর্তমানে ফাঁকা ও অরক্ষিত ভবনটি গবাদি পশুর অবাধ চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নকলায় আগুন লাগলে ২৫ কিলোমিটার দূরের শেরপুর সদর বা নালিতাবাড়ী ফায়ার স্টেশনের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু অতিরিক্ত দূরত্বের কারণে দমকল বাহিনীর গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সবকিছু সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা এই ভবনটি দ্রুত সংস্কার ও চালু করা হলে উপজেলার মানুষ দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ সেবা পাবে। এতে অগ্নিকা-ে প্রতি বছর হওয়া কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। আরেক বাসিন্দা মো. আলামিন জানান, দূর থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে অনেক সময় লাগায় প্রায়ই বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। মো. ইন্তাজ আলী নামে আরেক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আগুন লাগার দীর্ঘ সময় পর ফায়ার সার্ভিস এসে পৌঁছায়, ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। তাই প্রয়োজনে অন্য কোনো স্থানে হলেও নতুন একটি স্টেশন চালুর জোরালো দাবি জানান তারা।
দ্রুত এই আইনি জটিলতা নিরসন করে পরিত্যক্ত ভবনটি সংস্কারের মাধ্যমে নকলায় কাক্সিক্ষত ফায়ার স্টেশনটি চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
এ বিষয়ে জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মো. আতিকুর রহমান জানান, জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণেই মূলত স্টেশনটির কার্যক্রম এতদিন স্থগিত রয়েছে। বর্তমানে জেলা সদর ও নালিতাবাড়ী উপজেলার ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে নকলা অঞ্চলের দুর্ঘটনা মোকাবিলা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের রায় পক্ষে আসামাত্রই দ্রুত সময়ের মধ্যে ফায়ার স্টেশনটির বাকি কাজ শেষ করে এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন