গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার নদীবন্দর হিসেবে খ্যাত ভাটিয়াপাড়ায় মধুমতি নদীর বাঁধে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আতঙ্কে দোকান-পাট ও মালামাল সরিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ভাঙলকবলিত এলাকায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা বলছে, জিও ব্যাগ ফেলে প্রাথমিকভাবে ভাঙন রোধ করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার অন্যতম বাজার ভাটিয়াপাড়া বাজার। এ বাজারটি গড়ে উঠেছে মধুমতি নদীর কোল ঘেষে। বাজারটি নদীবন্দর হিসাবে ব্যবহৃত হওয়ার পাশাপশি রয়েছে রেল স্টেশন। কিন্তু হঠাৎ করেই গত শুক্রবার মধুমতি নদীর বাঁধে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার এলাকা। ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট ও মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা ও সালাউদ্দিন মোল্রা জানান, ভাঙনকবলিত এ বাজারে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করায় প্রতিনিয়ত ভাঙনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। এর আগেও কয়েকবার ভাঙনের শিকার হতে হয়েছে। ফলে জীবিকার একমাত্র উৎস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হরিয়ে নিঃস্ব হতে হয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। এদিকে ভাটিয়াপাড়া বাজারের মধুমতি নদী ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে নেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয় তাদের। দ্রুত ভাঙকবলিত এলাকায় স্থায়ী সমাধানের দাবি ভুক্তভোগীদের।
ভাটিয়াপাড়া বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মামুন শরীফ জানান, জিও ব্যগ ফেলে নদী ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। কারণ, স্রোতের তোড়ে জিও ব্যাগ সরে গিয়ে কদিন পর আবারও ভাঙন দেখা দেবে। এ কারনে ব্যবসায়ীদের দোকান ও বাজার রক্ষা করার জন্য স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি।
গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়র বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল জানান, ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। ভাঙন রোধে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলানোর পাশাপাশি বরাদ্দ পেলে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন