ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শ্রেণিকক্ষ দখল করে শিক্ষকদের বসতবাড়ি, কোচিং বাণিজ্য

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২৫, ০৪:০৩ এএম
শ্রেণিকক্ষ দখল করে বসবাস শুরু করেছেন কয়েকজন শিক্ষক

কলেজ ভবন দখল করে বসবাস করছেন কয়েকজন শিক্ষক আর শ্রেণিকক্ষেই যে যার মতো কোচিং সেন্টার খুলে বসেছেন। ফরিদপুরের সদরপুর সরকারি কলেজে চলছে শিক্ষকদের এমন নীতিহীন কাজকর্ম। এ ছাড়া শিক্ষকরা নিয়মিত কলেজে আসেন না, ক্লাসও করান না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

অভিভাবকদের অভিযোগ, সদরপুর সরকারি কলেজে চরম অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক শিথিলতার কারণে শিক্ষার পরিবেশ দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি এখন অনেকটা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজটির একাডেমিক ভবনের একাধিক কক্ষ দখল করে ‘টিচার্স কোয়ার্টার’ বানিয়ে বসবাস করছেন কতিপয় শিক্ষক। একাডেমিক ভবনের কক্ষগুলো ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় ভবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত কোচিং বাণিজ্য চালানোর। সরকারি ছুটির দিনেও (শুক্র ও শনিবার) কলেজ খোলা রাখেন শিক্ষকরা। তবে কোনো অতিরিক্ত ক্লাস বা এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটির জন্য নয়, বরং প্রতিদিনের মতো এই দুদিনও শ্রেণিকক্ষগুলো ব্যবহৃত হয় শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ব্যাচ পড়ানোর জন্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, স্যাররা ক্লাসে ঠিকমতো পড়ান না। কিন্তু তাদের কাছে প্রাইভেট পড়লে ওই একই ক্লাসরুমে খুব যতœ করে পড়ান। সরকারি ফ্যান, লাইট আর বেঞ্চ ব্যবহার করে তারা ব্যক্তিগত ব্যবসা করছেন, এটা স্পষ্ট অনিয়ম।

কলেজের এই নাজুক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজর অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনামুল হক বলেন, শিক্ষকদের উপস্থিতির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। একাডেমিক ভবনে শিক্ষকরা থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সদরপরে থাকার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক ভবনে থাকছেন। কোচিং বাণিজ্যের বিষয়টি সব সরকারি কলেজেই হচ্ছে। তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মৌখিক পারমিশন নিয়ে অনেক আগে থেকেই কলেজের রুম ব্যবহার করে কোচিং করাচ্ছেন।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, আমি এখানে কয়েকদিন হলো জয়েন্ট করেছি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।