× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রাজস্থলী (রাঙামাটি) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ১১:০১ এএম

উৎপাদনে শীর্ষে পাহাড়ের প্রধান অর্থকরী ফসল কলা

রাজস্থলী (রাঙামাটি) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ১১:০১ এএম

পাহাড়ি কলা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পাহাড়ি কলা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

উৎপাদন বিবেচনায় পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে ক্রমেই শীর্ষ অবস্থান দখল করছে কলা। রাঙামাটি, রাজস্থলী উপজেলা, পাহাড়ি ঢাল, টিলা ও সমতল ভূমিতে ব্যাপক হারে কলা চাষ হচ্ছে।

কম খরচে অধিক লাভ, দ্রুত ফলন এবং সারা বছর বাজার চাহিদা থাকায় পাহাড়ের কৃষকদের কাছে কলা এখন নির্ভরতার ফসলে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া কলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

লাল মাটি, প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং তুলনামূলক কম শীতল আবহাওয়া কলা উৎপাদনে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। ফলে স্থানীয় কৃষকরা ধান বা অন্যান্য মৌসুমি ফসলের পাশাপাশি কলা চাষেও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। অনেক কৃষক কলা চাষকে পেশাগত কৃষিকাজ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

পাহাড়ি অঞ্চলে সাগর, সবরি, চিনিচাঁপা, কাঁঠালি ও আমৃতসাগরসহ বিভিন্ন জাতের কলা চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে সাগর ও সবরি কলার উৎপাদন তুলনামূলক বেশি। এসব কলা স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে।

পাহাড় থেকে প্রতিদিন ট্রাক ও পিকআপের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কলা চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনীসহ বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একবার চারা রোপণের পর নিয়মিত পরিচর্যা করলে ১০-১২ মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। অন্য ফসলের তুলনায় রোগবালাই কম হওয়ায় ক্ষতির ঝুঁকিও কম। ফলে অল্প পুঁজিতে ভালো আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন কৃষকরা। অনেক পরিবার কলা চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় কলা চাষি মংচিং মারমা বলেন, আগে আমরা শুধু ধান আর কিছু মৌসুমি সবজি চাষ করতাম। লাভ খুব কম হতো। এখন কলা চাষ করে সংসার চালানো সহজ হয়েছে। একবার চারা লাগালে নিয়মিত পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। বাজারে সবসময় চাহিদা থাকায় বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তা কম।

তিনি আরও জানান, আমি প্রায় এক একর পাহাড়ি জমিতে কলা চাষ করি। প্রতি একরে চারা, সার, শ্রম ও পরিচর্যা বাবদ মোট খরচ হয় প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে একরপ্রতি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত কলা বিক্রি করা যায়। সব খরচ বাদ দিয়ে আমার হাতে থাকে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লাভ।

কলা বাগানে কাজ করা শ্রমিক মংপ্রু মারমা বলেন, কলা চাষ বাড়ায় আমাদের কাজের সুযোগও বেড়েছে। চারা রোপণ থেকে শুরু করে পরিচর্যা, কাটা ও পরিবহনের সময় নিয়মিত কাজ পাওয়া যায়। এতে পরিবার চালাতে সুবিধা হচ্ছে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা সংকট। পাহাড়ি এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির অভাব, উন্নত জাতের চারা সংকট, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করছে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধস ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হলে কলা বাজারজাত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার বিশ্বাস বলেন, উৎপাদন বিবেচনায় পাহাড়ের প্রধান অর্থকরী ফসল এখন কলা। পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া কলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কৃষকরা সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করলে অল্প খরচে ভালো লাভ করতে পারেন।

কৃষি বিভাগ থেকে উন্নত জাতের চারা, রোগবালাই দমন এবং আধুনিক চাষাবাদ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যদি সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা যায়, তাহলে পাহাড়ি কলা দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে। এতে পাহাড়ের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আগামী দিনে পাহাড়ে কলা চাষের আওতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষকদের প্রণোদনা, সহজ শর্তে ঋণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে কলা উৎপাদন বাড়ানো গেলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে, উৎপাদন, বাজার চাহিদা ও লাভজনকতার দিক থেকে কলা এখন পাহাড়ের প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে নিজ অবস্থান দৃঢ় করেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে পাহাড়ের কলা চাষ হতে পারে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!