গাজীপুরের শ্রীপুরে আদালতে বিচারাধীন একটি জমিতে জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ওই কাজ বন্ধ করতে গিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে গিয়ে সীমানা প্রাচীরের কাজ বন্ধ করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে শ্রীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাংনাহাটি গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তি অর্ধশতাধিক শ্রমিক নিয়ে জোরপূর্বক এক ব্যক্তির জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছিলেন। তাদের দাবি, ফারুক হোসেন স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছিলেন। যদিও ওমর ফারুক দাবি করেন, আদালতের রায় তাদের পক্ষেই রয়েছে। তবে অপর পক্ষও জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা করেছেন। ফলে অমীমাংসিত জমিতে জোরপূর্বক নির্মাণকাজ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
খবর পেয়ে একাধিক সংবাদকর্মী ঘটনাস্থলে যান। তাদের সামনেই ওমর ফারুক নামের এক ব্যক্তি এসি ল্যান্ডের সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং উত্তেজিত আচরণ করেন। ওমর ফারুকের দাবি, ওই জমির ওপর আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। সে কারণেই সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছিল।
অপর পক্ষের দাবি, জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকার পরও জোর করে দখল নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা জানান, খবর পেয়ে এসি ল্যান্ড ঘটনাস্থলে গেলে তার সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। এ ছাড়া ওই জমির একটি অংশ সরকারি জমি, যা কৌশলে সীমানা প্রাচীরের ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছিল।
জমির মালিক দাবি করা অপর পক্ষের আবদুস সালাম বলেন, ‘আমরা ক্রয়সূত্রে অন্তত ৫০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছি। আগে কখনো তারা জমিটির দাবি তোলেনি। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এখন জোর করে দখল নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। তারপরও তারা বাউন্ডারি দিয়ে জমি দখল করতে চাচ্ছে। আমরা আইনের সহায়তা চাই।’
অভিযুক্ত ওমর ফারুক বলেন, ‘এই জমির ওপর আদালতের রায় আমাদের পক্ষে রয়েছে। তাই আমরা আমাদের জমিতেই কাজ করছি।’ এসি ল্যান্ডকে হেনস্তার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে শুধু তর্ক হয়েছে, হেনস্তার কিছু হয়নি।’
শ্রীপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শ্যামল ভূঁইয়া বলেন, ‘ফারুক হোসেন আমাদের দলের একজন কর্মী। তবে তার পারিবারিক বিষয় বা জমি সংক্রান্ত বিরোধ সম্পর্কে আমরা অবগত নই। কেউ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জবরদখল বা কোনো অপরাধ করলে প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধে কোনো ছাড় নেই।’
শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এক পক্ষ আমাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। জমিটি নিয়ে আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও ওমর ফারুক বলপ্রয়োগ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছিলেন, যা বেআইনি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় আমরা ফিরে আসি। পরে বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দুই পক্ষকেই আইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তর্ক হয়েছে, তবে হেনস্তার বিষয়টি তিনি সেভাবে দেখছেন না।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন