বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের আদমদীঘি ও মুরইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কোনো যাত্রী ছাউনি না থাকার কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বাসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী সাধারণের। প্রতিদিন প্রখর রোদ কিংবা হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে শত শত নারী-পুরুষ ও শিশুরা সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই স্থানে যাত্রী ছাউনি ও টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগের স্বীকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের।
জানা গেছে, বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে আদমদীঘি সদর ও মুরইল বাসস্ট্যান্ডে সরকারি অর্থায়নে প্রায় ৩০ বছর আগে ইটের তৈরি পাকা যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়। ওইসব যাত্রী ছাউনিতে বাসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীরা অনায়াসে বসে বিশ্রাম নিতেন। তাদের নির্ধারিত বাস এলে চলে যেতেন গন্তব্যে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাঝে মধ্যে তাদের সীমানার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালালেও যাত্রী ছাউনি রেখে দিতেন। বর্তমানে আদমদীঘি বাস্ট্যান্ডে নির্মিত পাকা যাত্রী ছাউনিটির এখন আর কোনো চিহ্ন নেই। প্রায় আট বছর আগে যাত্রী ছাউনির পাশে জলাশয়ে মাটি কেটে ভরাট করতে গিয়ে স্থানীয়ভাবে অপরিকল্পিতভাবে যাত্রী ছাউনি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে যাত্রী ছাউনির সেই নির্ধারিত জায়গাসহ পুরো বাসস্ট্যান্ড এলাকা দখল করে একশ্রেণির ব্যবসায়ীরা দোকানপাট গড়ে তুলেছেন।
একই চিত্র মুরইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায়ও। দীর্ঘদিন ধরে আদমদীঘি সদর ও মুরইল বাসস্ট্যান্ডে নতুন করে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রোদে পুড়ে কিংবা বৃষ্টির সময় ভিজে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেতে হচ্ছে বাসের অপেক্ষায়।
এ ছাড়া টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় নারী যাত্রীরা বড় বিপাকে পড়ছে সবচেয়ে । জরুরি প্রয়োজনে কোনো নিরাপদ ও নির্ধারিত ব্যবস্থার অভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
বাসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী আব্দুর রহমান ও রবিউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আদমদীঘি ও মুরইল বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ছাউনি না থাকায় খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ দুই স্থানে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, পরিবেশগত ও জনস্বার্থের কারণে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ প্রয়োজন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয়দের দাবি, আদমদীঘি সদর ও মুরইল বাসস্ট্যান্ডে জরুরিভিত্তিতে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের পাশাপাশি একটি পাবলিক টয়লেট চালু করা হলে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন