× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম

রোববার থেকে বেনাপোল-খুলনা-মোংলা রুটে চলবে বেসরকারি ট্রেন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম

বেনাপোল কমিউটার (বেতনা) ট্রেন। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বেনাপোল কমিউটার (বেতনা) ট্রেন। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেনাপোল-খুলনা-মোংলা ভায়া যশোর রুটে চলাচলকারী লাভজনক বেনাপোল কমিউটার (বেতনা) ট্রেনটি সরকারি ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১০ জানুয়ারি) থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় রেলওয়ের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে ‘এইচ এন্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও কমিউটার ট্রেনটি বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন যাত্রীসাধারণ। তাদের দাবি, ট্রেনটি সরকারি ব্যবস্থাপনাতেই পরিচালিত হোক।

রেল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনটি বেসরকারি খাতে লিজ দিলে রেলওয়ের বর্তমান আয়ের চেয়ে বেশি রাজস্ব পাওয়া যাবে-এই যুক্তিতে কিছু অসাধু কর্মকর্তা বিষয়টি এগিয়ে নেন। স্টেশনে চেকারের স্বল্পতার কারণে টিকিট কাটতে কিছুটা সমস্যা হলেও, চেকার নিয়োগ ও টিকিট কাটায় জনসচেতনতা বাড়ালে সরকারি ব্যবস্থাপনাতেই আরও বেশি লাভ করা সম্ভব বলে দাবি সেবা প্রত্যাশীদের। তাদের মতে, রেল বেসরকারি খাতে গেলে ভোগান্তি বাড়বে এবং যাত্রীদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে। এ কারণে রেলযাত্রী ও স্থানীয়রা সরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেনে যাতায়াতকে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যজনক মনে করেন।

রেল সূত্র জানায়, লাভজনক এই রুটটি বেসরকারি টিকিট ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার জন্য ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৯ মে দরপত্র খোলা হয় এবং জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে যাচাই-বাছাই শেষে তা রেলের মূল্যায়ন কমিটিতে পাঠানো হয়। পরবর্তী যাচাই-বাছাই শেষে ‘এইচ এন্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশনকে তিন বছরের জন্য ট্রেনটির টিকিট ব্যবস্থাপনার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। যাত্রীদের দাবি, কোনো আন্দোলন যেন না হয়, সে কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছে।

১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর এই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয় এবং ১১ বছর ধরে (২০১০ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত) এটি সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। পরে বেসরকারি খাতে ‘মেসার্স বান্না এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ইসলাম শিপ বিল্ডার্স’ চুক্তিবদ্ধ হয়ে ট্রেনটি পরিচালনা করে। বেসরকারি টিকিট ব্যবস্থাপনায় যাত্রীসেবার মান নিম্নমুখী হওয়া এবং চোরাকারবারি ও টানাপাটির দখলে চলে যাওয়ায় ২০১৩ সালে আবারও ট্রেনটি সরকারি তত্ত্বাবধানে ফিরে আসে। বর্তমানে ট্রেনে যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে এবং এ রুটে অধিকাংশ পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারতে যাতায়াত করেন।

লাভজনকতা ও যাত্রীসেবার মান বিবেচনায় ২০১৭ সালের ১ মার্চ থেকে এ রুটে দিনে দুইবার যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে মাসে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা আয় করছে, যা আগের তুলনায় বেশি। ফলে লাভজনক এই ট্রেনটির দিকে ব্যবসার সুযোগ সন্ধানীদের নজর পড়েছে। এ সুযোগে রাষ্ট্রীয় সম্পদকে লোকসানের হিসেবে দেখিয়ে ট্রেনটি বেসরকারি টিকিট ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেওয়ার যুক্তি তৈরি করা হয়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, বেসরকারি টিকিট ব্যবস্থাপনায় গেলে বগির সংখ্যা কমে যায় এবং যাত্রীদের ঠাসাঠাসি করে বসতে হয়। তাই তারা ট্রেনটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় রাখার দাবি জানাচ্ছেন। চেকিং ব্যবস্থা বাড়ালে রাজস্ব আয় আরও বাড়বে বলেও তারা মনে করেন। পাশাপাশি টিটিদের বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগও রয়েছে।

ট্রেনযাত্রী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, খুলনা থেকে বাসে বেনাপোল আসতে সময় লাগে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা এবং ভাড়া পড়ে প্রায় আড়াইশ টাকা। অথচ কমিউটার ট্রেনে একই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা এবং ভাড়া মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। এ কারণে খুলনা থেকে জেলা শহর যশোরসহ ভারতে যাতায়াতকারী যাত্রীরা বাসের তুলনায় কম খরচে ট্রেনে যাতায়াত করেন। আগের তুলনায় কমিউটার ট্রেন থেকে সরকারি কোষাগারে বেশি অর্থ জমা হচ্ছে। বর্তমানে এই ট্রেন থেকে গড়ে প্রতি মাসে ৩৫ লাখ টাকা আয় করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তাই লাভজনক এই ট্রেনটির প্রতি ব্যবসার সুযোগ সন্ধানীদের নজর পড়েছে।

আরেক যাত্রী শ্যামল কুমার বলেন, বেনাপোল-খুলনা-মোংলা কমিউটার ট্রেনটি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়া হলে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হবেন। একই সঙ্গে চোরাচালানকারীরা আগের মতো তাদের আধিপত্য বিস্তার করার সুযোগ পাবে। তাই লাভজনক বেনাপোল-খুলনা-মোংলা বেতনা কমিউটার ট্রেনটি যেন বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়া না হয়, সে জন্য তিনি রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

টেন্ডারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘এইচ এন্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’-এর মালিক হুমায়ুন আহমেদ বলেন, আমরা কাজ পেয়েছি। অনেক আগেই আমাদের দায়িত্বে এ রুটে ট্রেন চলার কথা ছিল, কিন্তু বাজেটসহ অন্যান্য কারণে তা সম্ভব হয়নি। রোববার থেকে বেসরকারি টিকিট ব্যবস্থাপনায় আমাদের দায়িত্বে এই রুটে ট্রেন চলাচল করবে।

বেনাপোল রেলস্টেশনের মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, বেতনা কমিউটার ট্রেন রোববার (১১ জানুয়ারি) থেকে বেসরকারি টিকিট ব্যবস্থাপনায় চলবে। ভাড়া অপরিবর্তিত থাকবে। আগে প্রতি মঙ্গলবার ট্রেনটি বন্ধ থাকত, তবে এখন আর বন্ধ থাকবে না। সপ্তাহের সাত দিনই ট্রেনটি চলাচল করবে।

পাকশীতে কর্মরত রেলওয়ের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার মিহির কুমার গুহ বলেন, নীতিমালা অনুসরণ করেই ট্রেনটি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়া হয়েছে। লোকসানের কারণে অনেক সময় ট্রেন বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়া হয়। কোনো কোম্পানি যদি শেষ ছয় মাসের আয়ের চেয়ে বেশি অর্থ দিতে চায়, তাহলে তাদের অনুকূলে লিজ দেওয়া হয়ে থাকে। তিনি আরও জানান, যে কোনো সময় এই লিজ বাতিল করার ক্ষমতা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!