× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০১:২২ পিএম

‘বাংলাদেশি বউ হয়ে জীবন আমার ধন্য’

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০১:২২ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

‘আতা গাছে তোতা পাখি, ডালিম গাছে মৌ, জীবন আমার ধন্য হলো, হয়ে বাংলাদেশি বউ’এমনই একটি কনটেন্টে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন বাংলাদেশি পুত্রবধূ সিনথিয়া ইসলাম। কারণ, ছোটবেলা থেকে মায়ের ভালোবাসা না পেলেও শাশুড়ির ভালোবাসায় মুগ্ধ ফরাসি সিনথিয়া। এ জন্যই বারবার ছুটে আসতে চান শ্বশুরবাড়ি লক্ষ্মীপুরে।

প্রেম-ভালোবাসার মতো মধুর করেই সিনথিয়া ও তার স্বামী আরিফুল ইসলাম রাসেল একটি ফেসবুক পেজকে সাজিয়ে তুলেছেন। যেখানে তারা সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করছেন। প্রায় ১ বছর ৯ মাসে ২.১ মিলিয়ন ফলোয়ারের ভালোবাসা পেয়েছেন তারা। তাদের কনটেন্ট যেন মিলিয়ন পার করতে সময় নেয় না।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে খ্রিষ্টান থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে লক্ষ্মীপুরের রাসেলের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সিনথিয়া। তার আগের নাম ছিল অম। তাদের সংসারে ফুটফুটে দুটি সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে মেয়ের নাম আমেনা ইসলাম (৬) ও ছেলে আলিফ ইসলাম (৪)।

সম্প্রতি রাসেল স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়িতে এসেছেন। মেঘনা নদী এলাকাসহ লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরে গ্রামীণ পরিবেশে আনন্দ উদযাপনের চিত্রও তাদের পেজে তুলে ধরেছেন। পৃথিবীর বৃহৎ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারও তারা ঘুরে এসেছেন।

আরিফুল ইসলাম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রাজিবপুর এলাকার সমসের উদ্দিন খলিফাবাড়ির মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে এবং সিনথিয়া ফ্রান্সের লারোসাল শহরের পচিচ জুবের মেয়ে।

রাসেলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের কাছে বিদেশকে এবং বিদেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্য নিয়ে ২০২৪ সালে রাসেল অ্যান্ড সিনথিয়া (https://www.facebook.com/share/1AJ8AqoTGr/) নামে ফেসবুক পেজ খোলা হয়। এর আরেকটি উদ্দেশ্য রয়েছে, সেটি হলো মানুষের সঙ্গে পরিচিত ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। বর্তমানে পেজে প্রায় ২.১ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ বাংলাদেশি আর ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে।

অ্যারাবিয়ান দেশ থেকে আমাদের সবচেয়ে বেশি ফলো করে। একটা মানুষ যে পারফেক্ট হবে তা না, আমাদেরও ভুল থাকতে পারে। তারপরও যে বাংলাদেশের মানুষ যে আমাদের এতটুকু ভালোবাসে এবং ভালোবাসা দেবে, এটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।

আরও জানা গেছে, ২০১১ সালে রাসেল উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ড যান। সেখান থেকে ২০১৩ সালে তিনি ফ্রান্সে চলে যান সেই উচ্চশিক্ষার জন্য। সেখানেই সিনথিয়ার সঙ্গে রাসেলের পড়ালেখা এবং পরিচয়।

এদিকে, ইংরেজি জানলেও ফ্রান্সের মানুষ ফরাসি ভাষায় কথা বলেন। এতে সম্পর্কে মাঝখানে ভাষা জটিলতায় পড়েছেন রাসেল। সিনথিয়ার সঙ্গে কথা বলতে হলে তাকে সহযোগিতা নিতে হতো গুগল ট্রান্সলেটের। এভাবেই এক বছর যায় তার ভাষা জটিলতা থেকে বের হতে। একপর্যায়ে সিনথিয়ারও বাংলা ভাষা শেখার জন্য আগ্রহ জাগে। তবে মনের মিলন থেকে তাদের ভাব হয়ে যায়।

রাসেল জানায়, সিনথিয়ার এক বান্ধবীকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে যান তিনি। কিন্তু ঘটনাস্থলে সিনথিয়ার হাসিতে ফেঁসে গেলেন তিনি। মনে মনে ভাবেন, যদি সিনথিয়া তার জীবনে আসে, তাহলে সবচেয়ে ভালো হবে। আল্লাহর নিয়তি, শেষে প্রেমের সম্পর্ক থেকে দুজন এখন স্বামী-স্ত্রী।

বিয়ের বিষয়ে প্রথমে সিনথিয়ার বাবা রাজি হননি। তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। বিদেশে ১৮ বছরের মেয়েদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। পরে তার বাবাকে অনুরোধ করে সে বাংলাদেশে আসে।

২০১৭ সালে লক্ষ্মীপুরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মাধ্যমে তার নাম অম থেকে সিনথিয়া ইসলাম রাখা হয়। পরে ইসলামিক রীতিনীতি অনুযায়ী রাসেল ও সিনথিয়ার বিয়ে হয়। এ নিয়ে সিনথিয়া পাঁচবার শ্বশুরবাড়ি লক্ষ্মীপুরে এসেছেন।

সাংসারিক জীবনে বিশ্বাস ও ভালোবাসার মাধ্যমে যেকোনো পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা সিনথিয়ার অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন রাসেল। তারা সুখে আছেন। বিদেশি অন্য মেয়েদের চেয়ে সিনথিয়ার মনমানসিকতাও অনেক ভালো।

তার স্বামীর দাবি, সিনথিয়া সংসারকে সুখী রাখছে। এতে নিজের অবদান কম বলে জানালেন রাসেল। বাচ্চা হওয়ার আগে সিনথিয়া চাকরি করত। এরপর তাকে উৎসাহ দিলেও বাংলাদেশের মায়েদের মতো সেও দায়িত্ববান হয়ে ওঠে। এখন সে চাকরি করে না। রাসেলের আয়-উপার্জনেই এখন সুখী পরিবার তাদের।

রাসেল বলেন, আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশ। দেশে আসতে হবেই। আমার বাচ্চাদের মায়ের দেশ হচ্ছে ফ্রান্স। সেটা ভোলা যাবে না। বাচ্চারা বাংলাদেশি এবং ফরাসিও। দুটিই আমি মানতে চেষ্টা করি।

আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে, পরে যদি কোনো ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারি, তাহলে আমি ছয় মাস বাংলাদেশে এবং ছয় মাস ফ্রান্সে থাকব। বাচ্চাদের আমাদের দেশের সংস্কৃতি শেখানো যাবে। সঙ্গে তারা তাদের মায়ের দেশের কথাও যেন না ভোলে।

কনটেন্ট ক্রিয়েট নিয়ে তিনি বলেন, মানুষের ভালোবাসা পেতে হলে সেক্রিফাইস করতেই হবে। কনটেন্ট ক্রিয়েটের সবকিছু আমিই করি। মাঝেমধ্যে সিনথিয়া কিছু আইডিয়া দেয়। তার চালচলন কথাবার্তা মানুষ বেশি ভালোবাসে। যেহেতু এটি আমরা শুরু করেছি, শেষ আমাদেরই করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন, আপনার বাড়ি তো লক্ষ্মীপুর, আপনি নোয়াখালীকে রিপ্রেজেন্ট করেন কেন? আসলে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী আমরা একই মায়ের সন্তান। লক্ষ্মীপুরের কথা বললে নোয়াখালীর বিষয়টি আগে আসে।

নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষা সারাদেশেই খুব পরিচিত। বিদেশেও অনেক মানুষ নোয়াখালীর ভাষায় কথা বলে। সে জন্য আমরা চেষ্টা করি আঞ্চলিক ভাষায় দেশের মানুষের কথাগুলো ফুটিয়ে তোলার জন্য।

সিনথিয়ার পরিবার নিয়ে রাসেল বলেন, সিনথিয়ার ছোটবেলায় তার বাবা-মায়ের ডিভোর্স হয়ে যায়। যার কারণে সে মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সেই ভালোবাসা সে আমার মায়ের কাছ থেকে পাওয়ার আশা করে এবং পাচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ। সে জন্য সে বারবার বাংলাদেশে ফিরে আসার জন্য চেষ্টা করছে।

ফরাসি ভাষায় সিনথিয়া বলেন, বাংলাদেশে পরিবারের বন্ধন, একে অপরের প্রতি ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। এমন সম্পর্ক আসলে বিদেশে দেখা যায় না। এ দেশের সামাজিকতাকে তিনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।

বাংলা ভাষায় কথা বলতে বললে তিনি বলেন, ‘আমার দেশ বাংলাদেশ।’ আসলে তিনি মেনে নিয়েছেন যে বাংলাদেশ শুধু তার স্বামীর দেশ নয়, তারও দেশ। শাশুড়ির হাতে বানানো পিঠা তার পছন্দের খাবার। নিরহংকারী সিনথিয়া সবার সঙ্গে সহজে মিশতে পারেন।

রাসেল বলেন, আমার মেয়ের নাম আমেনা ইসলাম (৬)। এ নামটি তার মায়ের দেওয়া। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মায়ের নামে আমাদের মেয়ের নাম রাখা হয়েছে। আর আমার ছেলে নাম হচ্ছে আলিফ ইসলাম (৪)। ছেলেটা বাংলা একটু কম পারে। ভাষা শেখানো নিয়ে এটা আমার ব্যর্থতা।

রাসেল আরও বলেন, আমি এখনো আমার স্ত্রীকে বাংলা ভাষা শেখাতে পারিনি। বাচ্চারা যেটা শিখে, সেটা বেশির ভাগই মায়ের কাছ থেকে শেখে। আমি তো কাজের কারণে বেশির ভাগ সময়ই বাইরে থাকি। এ জন্য তাদের ভাষা শেখাতে পারিনি। রক্তের টানে নাড়ির টানে তাদের বাংলা শিখতে হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!