যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে ডিবি পুলিশ আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন করেছে। হত্যার ঘটনায় আরও একজন অভিযুক্ত শাহীন কাজীকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শাহীন শহরের লোন অফিসপাড়া এলাকার কিসলু কাজীর ছেলে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে শাহীন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়েছেন। আদালত ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত মূল পরিকল্পনাকারী নিহত আলমগীর হোসেনের জামাই বাসেদ আলী পরশ ও তার সহযোগী আসাবুল ইসলাম সাগর রিমান্ডে থাকাকালে শাহীন কাজীর নাম উল্লেখ করেন। এ ছাড়া মূল শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী ওরফে মিশুকও আদালতে স্বীকারোক্তিতে শাহীন কাজীর নাম প্রকাশ করেছেন।
ডিবি পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল। হত্যার পেছনের মূল কারণ ছিল পারিবারিক বিরোধ। শ্বশুরের অনুপস্থিতিতে নিহতের জামাই পরশ বিপুল সম্পদের মালিক হবেন বলে পরিকল্পনা ছিল।
ঘটনার দিন ৩ জানুয়ারি বিকেলে যশোর শহরের শংকরপুর মেডিকেল কলেজ মাঠে পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিকল্পনায় আলমগীরকে চেনানো, তার পথ ও নিরাপত্তা, গুলি চালানোর দায়িত্ব ঠিক করা হয়। হত্যাকাণ্ডে মোট সাতজন অংশ নেয়। তিনটি মোটরসাইকেলে ছয়-সাতজন ঘটনাস্থলে অবস্থান করেছিল। বিকেলে আলমগীর হোসেন মোটরসাইকেল চালিয়ে ইসহাক সড়কে প্রবেশ করলে চলন্ত গাড়ি থেকে মিশুক গুলি চালায়।
ডিবি পুলিশ জানায়, শাহীন কাজী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ঘটনার সমন্বয় ও পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ ও আগের গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের তথ্য থেকে তার সংযোগ পাওয়া গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই অলোক কুমার দে জানিয়েছেন, শাহীন আটক হওয়ার পর হত্যার মূল উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার ধরন স্পষ্ট হয়েছে। বর্তমানে পলাতক আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। এ পর্যন্ত মামলায় নিহতের জামাই পরশ, সহযোগী সাগর, মূল শুটার ত্রিদিব ও সর্বশেষ শাহীন কাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন