ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলার ৪ আসনের প্রার্থীরা প্রতীক পেয়ে ২২ জানুয়ারি থেকে প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা। মাইকিং আর গণসংযোগ করছেন প্রতিটি ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায়।
বিশেষ করে গেল ১৬ বছর পর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছেন ধানের শীষের প্রার্থী ও ভোটাররা। প্রতিটি শহর, পাড়া-ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।
এ দিকে কক্সবাজারের ৪টি সংসদীয় আসনের তিনটিতেই শক্ত অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। এখানে বিএনপির টিকিট নিয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফর রহমানের মতো শক্তিশালী ও জনপ্রিয় প্রার্থী রয়েছেন। আরও আছেন সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে কিছুটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করতে পারেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সাংসদ এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। এ আসটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও বাকি তিনটিতে সহজ জয় পাবে বিএনপি, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক যোদ্ধারা।
কক্সবাজার-১
চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ (ধানের শীষ)। বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থী তিনবার ও তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ একবার সংসদ সদস্য ছিলেন। সব মিলিয়ে ১৯৯১ সালের পর বিএনপির দখলে চারবার ছিল এই আসনটি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনটিতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হাসিনা আহমদ। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদকে পরাজিত করে তিনি এমপি নির্বাচিত হন।
এই আসনটিতে এবার বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ, যিনি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ একজন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং ওই আসনের বারবার নির্বাচিত সালাহউদ্দিন আহমদের বিপরীতে আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির আবদুল্লাহ আল ফারুক (দাঁড়িপাল্লা)।
তিনি ভোটের মাঠে নবীন। আবদুল্লাহ আল ফারুকের এটিই প্রথম কোনো নির্বাচনের প্রার্থী হওয়া এবং তাও সংসদ সদস্য প্রার্থী। ফলে বিএনপির অভিজ্ঞ সালাহউদ্দিন আহমদের সামনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কতটুকু লড়াই করবেন এটাই এখন ওই আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতবেন বলে মনে করছেন এ আসনের সাধারণ ভোটাররা।
এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সরওয়ার আলম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। কক্সবাজার-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার ৪৯০ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১৫৯টি।
কক্সবাজার-২
মহেশখালী ও কুতুবদিয়া দ্বীপ নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে মাতারবাড়ীর গভীর সমুদ্রবন্দর, ধলঘাটা অর্থনৈতিক অঞ্চল, কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, এসপিএম প্রকল্প, সোনাদিয়া ও কুতুবদিয়া দ্বীপের মতো প্রাকৃতিক সুন্দর দ্বীপ এবং বিশাল বঙ্গোপসাগর।
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক দুইবারের এমপি আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ (ধানের শীষ)। জামায়াতে ইসলামীর হয়ে লড়ছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ (দাঁড়িপাল্লা)। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হক (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) প্রার্থী এস এম রোকনুজ্জামান খান (ট্রাক) ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মাহমুদুল করিম লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
এ আসনটিতে বিএনপি এ পর্যন্ত তিনবার বিজয়ী হয়েছে। ২০০৮ সালে একবার জামায়াতে ইসলামী বিজয়ী হলেও সেটা ছিল বিএনপির সঙ্গে জোটগত নির্বাচন। বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনটি বিএনপির আসন হিসেবেই পরিচিত। এবার দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই জমবে সমানে সমান। শেষ হাসিটা কে হাসবেন সেটাই চেয়ে আছেন সাধারণ ভোটাররা।
কক্সবাজার-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫১ জন। ভোট কেন্দ্র ১১৮টি।
কক্সবাজার-৩
কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর শহিদুল আলম বাহাদুর (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাদ্দিস আমিরুল ইসলাম (হাতপাখা), লেবার পার্টির প্রার্থী জগদীশ বড়ুয়া (আনারস), আমজনতা দলের প্রার্থী নুরুল আবছার (প্রজাপতি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইলিয়াস (ফুটবল) প্রতীক।
বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে লুৎফর রহমান কাজল ছাড়া অন্যরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারবে না বলে মনে করেন স্থানীয় ভোটাররা।
কক্সবাজার-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬৩ জন, যা জেলার চারটি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ। মোট ভোট কেন্দ্র ১৭৮টি।
কক্সবাজার-৪
উখিয়া-টেকনাফ উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে এবার বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি থেকে চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী (ধানের শীষ)। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের আমির, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী। ভোটের মাঠে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা নুরুল হক (হাতপাখ), জাতীয়তাবাদী গণতন্ত্রিক আন্দোলন এনডিএম এর প্রার্থী এ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন খালেদ সিংহ প্রতীক। এ আসনে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই।
বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য জেলা বিএনপির নেতা মো. আব্দুল্লাহর সমর্থকরা টেকনাফে মশাল মিছিল ও কাফনের কাপড় পরে মিছিল করেছিল। পরবর্তী সময়ে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের পক্ষে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন। এর পরই দৃশ্যপট বদলে যায়। বর্তমানে ভোটের মাঠে অভিজ্ঞ শাহজাহান চৌধুরীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা।
বিএনপি প্রার্থী শাজাহান চৌধুরী বলেন, মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। মানুষ যে বিএনপিকে ভালোবাসে তা আবারও প্রমাণ করবে ধানের শীষকে এই আসনে বিজয়ী করে।
কক্সবাজার-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৮ জন এবং ভোট কেন্দ্র ১০৭টি। যা জেলার চারটি আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন।





সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন