ময়মনসিংহ-৩ আসনে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি বিদ্রোহী) আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ বলেছেন, ‘আপনাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। একটি ভোটও কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত এক বিন্দু রক্ত আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই ভোট রক্ষা করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ।’
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর সংসদীয় আসনে ঘোড়া প্রতীকের বিশাল শোডাউন শেষে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
রোববার বিকেলে গৌরীপুর পৌর শহরের পাটবাজারে অবস্থিত প্রার্থীর ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে শোডাউনটি বের হয়। পরে মিছিলটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পাটবাজারস্থ কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন থেকে তার অনুসারী ও নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে পৌর শহরে এসে জড়ো হন।
শোডাউন শেষে আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ বলেন, ‘আজ যখন আমার প্রাণপ্রিয় দল জাতীয়তাবাদী দল আমার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, যখন আমাদের নেতৃবৃন্দ যারা আমার সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন মিথ্যার জাল বুনে আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন, তখন দলের তৃণমূলের কর্মী, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ মিলেই আজ আমাকে প্রার্থী করেছেন। সারা গৌরীপুর থেকে এসে আমাকে যে সমর্থন জানিয়েছেন, সেই ঋণ আমি কোনো দিন শোধ করতে পারব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা আমার দুর্দিনে পাশে থেকে আমার নির্বাচন করছেন, তাদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। তবে শুধু জনসমর্থন দেখেই বিজয় নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সময় এখনো আসেনি। আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। ভোটারদের কাছে বারবার যেতে হবে। আমরা একজন ভোটারের কাছেও দশবার যাব।’
তিনি বলেন, ‘১২ তারিখ ভোটের মাধ্যমে আমাদের বিজয় নিশ্চিত হবে সেদিনই হবে আমাদের আনন্দের দিন। এর আগে আমরা কেউ আনন্দ প্রকাশ করব না। আমরা যদি মিলেমিশে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভোটারদের কাছে যাই, তাহলে ইনশাল্লাহ বিজয়ের মালা আমরা অবশ্যই পরতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখনো সময় আছে। প্রত্যেকটি মা-বোনের কাছে যেতে হবে, ঘরে ঘরে লিফলেট পৌঁছে দিতে হবে, আমাদের মার্কা ঘোড়া মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আমরা যদি বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারি, তাহলে আমি কোনো এমপি সাহেব বা মন্ত্রী হতে চাই না। আমি আপনাদের একজন যোগ্য পাহারাদার হতে চাই। আগামী পাঁচ বছর মানুষের পাশে থেকে, মানুষের সেবা করে একজন পাহারাদার হিসেবেই থাকতে চাই।’
ভুলে গেলে চলবে না আমাদের নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিন্তু আপনারা নির্ভয়ে মাঠে কাজ করবেন। আমরা সবাই আপনাদের পাশে আছি। কোথাও কোনো সমস্যা হলে আমরা সবাই মিলে তার সমাধান করব ইনশাল্লাহ। আমরা আচরণবিধি মেনে নির্বাচন করব। কেউ হুমকি-ধমকি দিলে তাতে আর কেউ পরোয়া করবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। আমি সেই ভোট ও কেন্দ্র রক্ষা করব এবং গৌরীপুরে ভোট গণনার মাধ্যমে বিজয়ের মালা নিয়ে আসব। সকালে সকালেই কেন্দ্রে যাবেন। ভোটের হার কম হতে পারে, তাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের উৎসাহ দিতে হবে, বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের কেন্দ্রে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
ভয় পাওয়ার কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, একটি ভোটও কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত এক বিন্দু রক্ত আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই ভোট রক্ষা করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ।’
কর্মসূচিতে অংশ নেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামছুউদ্দিন তালুকদার, সদস্য আব্দুল মান্নান তালুকদার, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান পলাশ, আরিফুল ইসলাম ভূইয়া, সাবেক পৌর কাউন্সিলর সুজিত কুমার দাস, জিয়াউর রহমান জিয়া, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান হানিফ প্রমুখ।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন