কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আলোচিত কলেজ শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি মেরাজ মিয়া (২৬) ও তার সহযোগী ইব্রাহীম ওরফে নিদানকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মেরাজ ও তার সহযোগী নিদানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকা থেকে মেরাজকে এবং তার সহযোগী ইব্রাহীম ওরফে নিদানকে পৌর শহরের পঞ্চবটী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মেরাজ পঞ্চবটী এলাকার মুর্শিদ মিয়ার ছেলে এবং ইব্রাহীম ওরফে নিদান একই এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ।
এ ঘটনায় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ১০টায় নিহতের বাবা আবু তাহের মিয়া অজ্ঞাতনামা আসামি করে ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে মামলার প্রধান আসামি মেরাজকে তার শ্বশুরবাড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মেরাজের দেওয়া তথ্যমতে পঞ্চবটী এলাকা থেকে নিদানকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেরাজ হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
আসামিদের তথ্যমতে জানা যায়, তারা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে আবু সুফিয়ানকে হত্যা করেছে। মেরাজ ভৈরবের একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী। তার বিরুদ্ধে ভৈরবসহ বিভিন্ন থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী নিদানের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি জানান, ‘বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া নিউটাউন এলাকার রোড সাইড পিৎজা সেন্টারের দক্ষিণ পাশের রেললাইনের ধারে কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান (১৯)-এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আবু সুফিয়ান ওরফে শাহ আলম কিশোরগঞ্জ সদর থানার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের বাদে কড়িয়াল এলাকার আবু তাহের মিয়ার ছেলে।’
তিনি আরও জানান, ‘২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্দুর ট্রেনে করে ভৈরবে আসে কলেজ ছাত্র আবু সুফিয়ান। রাত ১০টা থেকে রাত ১২টার মধ্যে কোনো এক সময় সে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নিহত হয়।’
এদিকে ছিনতাইকারীর হাতে কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ভৈরব শহরসহ কিশোরগঞ্জ জেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভৈরবে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে সুশীল সমাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। এতে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। মামলার ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই মামলার প্রধান আসামি মেরাজ ও তার সহযোগী নিদানকে গ্রেপ্তার করে রেলওয়ে থানা পুলিশ।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন